একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক, তবুও ‘সাধু’ রাজেশ খান্না, বদনামের ভাগী হয়েছিলেন শুধু ডিম্পল কাপাডিয়া!

News Desk

June 5, 2021 | 4:00 AM
blog image

আজকে আমাদের আলোচ্য বিষয় বলিউডের প্রয়াত কিংবদন্তী অভিনেতা রাজেশ খান্না (Rajesh khanna)। আজ জেনে নেব ভারতের প্রথম সুপারস্টারের উত্থানের কাহিনী।
১৯৬৫ সালে ফিল্মফেয়ার আয়োজিত একটি অল ইন্ডিয়া ট‍্যালেন্ট কনটেস্ট থেকেই উত্থান রাজেশ খান্নার। যেখানে অংশগ্রহণ করেছিলেন ফরিদা জালাল, অমিতাভ বচ্চন (Amitabh bachchan)-রাও। কিন্তু সবাইকে টপকে রাজেশ জিতে সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন ‘আখরি খত’ ফিল্মের ডেবিউর জন্যে। যার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন চেতন আনন্দ (Chetan anand)। এমনকি এই ছবি ১৯৬৭ সালে ‘আখরি খত’ অস্কারের নমিনেশনও পেয়েছিল। শুরু হয় রাজেশের পুরোদমে অভিনয় জীবন। নিউকামার রাজেশের তখন নিজস্ব এমজি স্পোর্টস কার ছিল। সেই থেকেই বোঝা যায় তিনি কতটা শৌখিন ছিলেন।

একটার পর একটা সুপারহিট ছবি দিয়ে রাতারাতি রাজেশের গায়ে ভারতের প্রথম সুপারস্টারের তকমা লেগে গিয়েছিল। কিন্তু রাজেশের দিনে দিনে নারী ও সুরার নেশা ক্রমশই বেড়ে যাচ্ছিল। প্রথমে অঞ্জু মহেন্দ্র, তারপর টিনা মুনিম সবার সঙ্গেই তাঁর ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরী হয়েছিল। তখন টিনা ছিলেন বলিউডে নিউকামার। একসময় রাজেশের একটি ইন্টারভিউয়ের জন্যে তিন মাস ধরে এক মহিলা সাংবাদিকের ঘুরতে হয়েছিল। পরে অবশ্য রাজেশ ডেট দিলেও তা বৃথা হয়ে যায় কেননা ইন্টারভিউয়ের দিন রাজেশ ও টিনা একান্তে নিজেরা ব্যস্ত ছিলেন তাই মহিলাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সেই মহিলা সাংবাদিক তখন রীতিমত কেঁদে জানান, রাজেশের ইন্টারভিউ না নিলে তাঁর চাকরি থাকবে না। তাঁর কান্না শুনে রাজেশ ও টিনা বাইরে এলেও তাঁরা তাঁকে অপমান করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে অঞ্জু মহেন্দ্রুর হস্তক্ষেপে টিনার সঙ্গে রাজেশের সম্পর্ক ভেঙে যায়।


ভিডিও


আরও পড়ুন :   বলিউড ইন্ড্রাস্ট্রিকে বদনাম করার চেষ্টা, অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হলেন শাহরুখ, সালমান, আমির

কিন্তু অঞ্জু জানতেন না, রাজেশের একাধিক যৌন সম্পর্কের কথা। একসময় এক অভিনেত্রী রাজেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন, যে রাজেশ তাঁকে হোটেলের রুমে ডেকে ‘ব্লো জব’ করতে বাধ্য করিয়েছিলেন। ভেঙে যায় রাজেশ ও অঞ্জুর সম্পর্কে। তবে এই সম্পর্কের মাঝে চলে এসেছিলেন ডিম্পল কাপাডিয়া (Dimple kapadia)। ডিম্পলের ‘ববি’ ফিল্ম রিলিজ হওয়ার আগেই পনেরো বছর বয়সী ডিম্পলের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় তিরিশ বছর বয়সী রাজেশের। তবে বিয়ের পর রাজেশের নিষেধ মেনে অভিনয় ছেড়ে দিয়েছিলেন ডিম্পল। রাজেশ-ডিম্পলের দুই মেয়ে টুইঙ্কল ও রিঙ্কি খান্নার জন্ম হয়। কিন্তু দিনের পর দিন ডিম্পলের উপর রাজেশের অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকায় একসময় ডিম্পল দুই মেয়ে টুইঙ্কল ও রিঙ্কিকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন।

কিন্তু রাজেশকে ডিভোর্স দেননি ডিম্পল। তারা সেপারেশনে ছিলেন, রাজেশের সঙ্গে সেপারেশনের দুই বছর পর থেকেই আবার অভিনয় শুরু করেন ডিম্পল। সেই সময় তাঁর অত্যন্ত ভালো বন্ধু হয়ে ওঠেন সানি দেওল (sunny deol)। কিন্তু সমাজ তাঁদের বন্ধুত্বকে নির্মল বলে মানেনি, শুরু হয় সানি ও ডিম্পলের সম্পর্ক নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে জোর গুঞ্জন। অনেকে আবার বলতেও শুরু করেন, সানি ও ডিম্পল লুকিয়ে বিয়ে করেছেন। কিন্তু তা মিথ্যা। এই ঘটনার আঁচ সানির পরিবারে পড়লে সানির স্ত্রী তখন তাঁকে আত্মহত্যার হুমকি দেন। ডিম্পলও নিজের জীবনে এই ‘পার্সোনাল ডিজাস্টার’ সহ্য করতে না পেরে সমাপ্তি করে তাঁদের বন্ধুত্ব।
অপরদিকে রাজেশের অ্যালকোহলের নেশা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে একসময় তিনি অ্যালকোহল পান করেই ছবির শুটিংয়ে আসতেন। এমনকি রাজেশের মধ্যে পাংচুয়ালিটির বিষয়ে শর্মিলা ঠাকুর জানিয়েছিলেন, সকাল দশটায় কল টাইম থাকলে রাজেশ পৌঁছাতেন দুপুর তিনটে নাগাদ।’

আরও পড়ুন :   পর্দার পিছনে পরিচালক রোহিত শেঠির আসল চেহারা সামনে আনলেন দিল্লীর এক নেতা

একদিকে ক্রমশ অহঙ্কারী হয়ে রাজেশ হারাচ্ছিলেন তাঁর ফিল্মের সুনাম অন্যদিকে বাড়ছিল ডিম্পলের স্টারডম। অমিতাভ বচ্চন অভিনীত ‘জঞ্জির’ ছবি হিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলিউডে শুরু হয়ে যায় অমিতাভ-যুগ। অমিতাভের নম্রতা, নিয়মানুবর্তিতায় মুগ্ধ প্রযোজক ও পরিচালকরা রাজেশের অহঙ্কারের ঝামেলা পোহাতে চাননি। শেষ হয় রাজেশ খান্নার যুগ। ওদিকে ডিম্পল অভিনীত ‘রুদালী’ তখন বিগেস্ট হিট। একসময় সবকিছুর উর্ধে গিয়ে রাজেশ কংগ্রেস পার্টি জয়েন করেন। মাত্র পাঁচ বছর তিনি সাংসদ থাকলেও তাঁর স্বভাবের কারণে রাজনীতিতেও নাম হারান রাজেশ। ফিরে আসেন অভিনয়ে। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে তখন অভিনয় জগতে চলে আসে নতুন নতুন মুখ। যাদের যাচ্ছে অমানানসই রাজেশ। ধীরে ধীরে অসফলতার গ্রাস করে রাজেশকে। শেষ জীবনেও তাঁর জীবনে ছিলেন অনিতা আডবাণী (Anita advani)। যিনি রাজেশের লিভ-ইন পার্টনার ছিলেন।

আরও পড়ুন :   তৈরি হতে চলেছে উত্তমকুমারের বায়োপিক, মহানায়কের ভূমিকায় শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়!

অপরদিকে ডিম্পল একাই দুই মেয়েকে বড় করে তুলেছেন। টুইঙ্কল আজ একজন সফল অভিনেত্রী ও লেখিকা। তাঁর সঙ্গে সুপারস্টার অক্ষয়কুমারের স্ত্রী। অবশ্য জামাইযের কথায় ক্যান্সার আক্রান্ত রাজেশ কে দেখতে গিয়েছিলেন ডিম্পল। শেষবারের মতো ডিম্পল ও রাজেশের দেখা হয়েছিল। তারপরেই রাজেশ মারা যান। তবে টুইঙ্কল ও রিঙ্কিকে তাঁদের বাবার সঙ্গে দেখা করতে কোনোদিনও বাধা দেননি ডিম্পল। অভিনয়ের পাশাপাশি ডিম্পল-এর একটি মোমবাতি তৈরীর কারখানা রয়েছে যেখানে তৈরী হয় রঙবেরঙের শৌখিন মোমবাতি। এছাড়াও তাঁর মোমবাতি বিভিন্ন আর্ট এক্সিবিশনেও ঠাঁই পায়। ডিম্পল কাপাডিয়ার অসফল বিয়ে, সানির সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি সব মিলিয়ে ডিম্পলকে এক ভয়াবহ মানসিক লড়াই লড়তে হয়েছিল কিন্তু সবকিছুই তাঁর ক্যারিয়ারে আঘাত আনতে পারেনি, এক টুকরো মোমবাতির মৃদু আলোতেই খুঁজে নিয়েছিলেন ডিম্পল নিজের শান্তি।