করোনা ছড়াল আফগানিস্তান, বাহারিনেও, মৃত্যু বাড়ছে দক্ষিণ কোরিয়া, ইটালিতে

সংক্রমণ কমার নাম নেই। চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন যতই দাবি করুক, ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে চিনে। শুধুমাত্র হুবেই প্রদেশেই মৃত্যু হয়েছে ৯৬ জনের। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৪৪২। উহান এই সংক্রমণের আঁতুরঘর হলেও বিশ্বের নানা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। নতুন আক্রান্তের হদিশ মিলেছে আফগানিস্তান, বাহারিনে। অন্যদিকে ইটালি, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাইরাসের সংক্রমণ মহামারীর আকার নিচ্ছে। চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের রিপোর্ট বলছে, মোট ৩১টি প্রদেশে সংক্রামিতের সংখ্যা ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে। বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যাটা আরও বেশি। ইউরোপে আগেই ছড়িয়েছিল ভাইরাসের সংক্রমণ।

সূত্রের খবর, নয়া করোনাভাইরাস ‘কোভিড-১৯’-এর সংক্রমণে সংক্রামিতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫২। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন হেলথ কমিশনার স্টেলা কিরিয়াকিডস জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইটালিতে এখনও পর্যন্ত ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ৩। হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে গৃহবন্দি। যে সমস্ত এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে, সেখানে কেউ গেলে বা সেই এলাকা থেকে বেরোলে জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু)রিপোর্ট বলছে, আফগানিস্তান ও বাহারিনেও ছড়িয়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। বাহারিনে একজনের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ পজিটিভ, কুয়েতে আক্রান্ত তিন জন। চিন থেকে শুরু হলেও গত দেড় মাসে সারা বিশ্বে ৭৮ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাস সংক্রমণের শিকার বলে জানাচ্ছে হু। ইরানে রবিবার মৃত্যু হয়েছে আরও ৩ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সে দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ জন। ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ। করোনাভাইরাস মহামারীর আকার নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়াতেও।

হু জানাচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ৫। নতুন আক্রান্ত অন্তত ১৬১ জন। সব মিলিয়ে সংক্রামিতের সংখ্যা ৭৬৩। দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স ও হুন্ডাই মোটর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের বাড়িতে বসে কাজ করার কথা বলেছেন সংস্থার কর্মীরা। চিন, হংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি আজ থেকে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নেপাল থেকে আসা যাত্রীদেরও বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু বলছে, এখনই চিনে সংক্রমণ কমার কোনও সম্ভাবনা দেখা যায়নি। মঙ্গলবারই বেজিং প্রথম জানায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৪৫ হাজার মানুষই আক্রান্ত হয়েছেন চিন থেকে। চিনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানিয়েছে, এই ৪৫ হাজার আক্রান্তের বেশিরভাগেরই সংক্রমণ ছিল মৃদু। আক্রান্তদের অধিকাংশেরই সংক্রমণ প্রাণঘাতী ছিল না। দ্রুত চিকিত্‍সায় তাঁরা সেরে উঠেছেন। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বলেছেন, মানুষের থেকে মানুষে সংক্রমণ ছড়িয়েছে বেশি।

একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আক্রান্তদের সংখ্যা বেশি। এইভাবে আক্রান্ত হয়েছেন দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ। চিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, ভাইরাসের সঙ্গে লড়তে গিয়ে চিনে ১৭০০ জনেরও বেশি চিকিত্‍সাকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬ জনের। এনএইচসি-র রিপোর্ট বলছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণে ২০০ জন আসামি ও সাতজন পুলিশকর্মী আক্রান্ত। বেসরকারি হিসেবে সংখ্যাটা চারশো ছাড়িয়েছে। গত সপ্তাহেই প্রায় ২২ হাজার পুলিশকর্মী ভাইরাসের টেস্ট করিয়েছিলেন। তার সব রিপোর্ট এখনও আসেনি। চিনের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, স্কুল ও কলেজগুলিতেও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।