খনিতে যে পরিমাণ সোনা আছে, তাতে সোনা মজুতে নাকি আমেরিকার পরেই উঠে আসবে ভারত !

উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রে দু-দুটি সোনার খনির খোঁজ মিলল। প্রায় ৩০ বছর খোঁড়াখুঁড়ির পর নতুন সোনার খনির খোঁজ পাওয়া গেল। দুটি খনি থেকে প্রায় ৬০ হাজার টন আকরিক সোনা মিলতে পারে বলে আশাবাদী জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার। গত তিন দশকে এই প্রথম দেশে সোনার খনির খোঁজ।৩০ বছর পর ফের মিলল সোনার ভাণ্ডার ।খোঁড়াখুঁড়ি শুরু সেই ১৯৯২ সালে।

সোনার সন্ধানে উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রে খোঁড়াখুড়ি শুরু করে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। কিন্তু সোনার কণারও সন্ধান মিলছিল না। ২৮ বছর পর হাতেনাতে রেজাল্ট। একটা নয়, দু-দুটো সোনার খনি। জোড়া সোনার খনি আবিষ্কারের নমুনা ভারতে কেন, এশিয়াতেই খুব বেশি নেই।

সোনপাহাড়ি ও হরদি ব্লক এলাকায় সোনার খনি মিলেছে ।দুটি খনিতে ৫৮ হাজার ২৮৬ টন আকরিক সোনা মজুত বলে দাবি করা হচ্ছে । বিহার লাগোয়া সোনভদ্রে এই বিপুল সোনার খোঁজ। ভারতে এই মুহূর্তে ৬২৬ টন সোনা সঞ্চিত রয়েছে । সোনভদ্রের দুটি খনিতেই প্রায় ৬০ হাজার টন আকরিক সোনা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে । ১৯৯২ সালে সোনভদ্রে সোনার খোঁজে সমীক্ষা শুরু করে জিএসআই।

২০০৫ সালে ২টি ব্লকে সোনার হদিশ মেলে ।২০১২ সালে গোল্ড লেয়ার ( সোনার স্তর ) খুঁজে পান গবেষকরা । প্রথমে খবর রটে যায়, শুধু সোনভদ্রেই যা সোনা রয়েছে, তাতে সোনা মজুতে আমেরিকার পরেই উঠে আসবে ভারত। কিন্তু জিএসআই আধিকারিকরা স্পষ্ট করেন, আকরিক সোনা থেকে খাঁটি সোনা সংগ্রহের কাজ বেশ কঠিন। আকরিক সোনা থেকে কতটা খাঁটি সোনা পাওয়া সম্ভব? তা আগে থেকে নিশ্চিত করা অসম্ভব বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০২০ সালে সোনভদ্রে যখন সোনার খোঁজ মিলছে, তখন ভূতত্ত্ববিদদের মনে পড়ছে আর্নেস্ট ইটনের কথা। ১৯২৩ সালে এই ব্রিটিশ ভূতত্ত্ববিদের উদ্যোগে সোনভদ্রে সোনার খোঁজ শুরু হয়১৯২৩ থেকে ১৯৪০ পর্যন্ত । ভারতে এই মুহূর্তে মোটে ৩টি খনি থেকে সোনা তোলা হয়।কর্ণাটকের ২টি ও ঝাড়খণ্ডের ১টি খনি থেকে সোনা উত্তোলন হয় । ১২টি খনি ইতিমধেই পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়েছে । উত্তরপ্রদেশ সরকার অবশ্য প্রবল আশাবাদী। যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসন জানাচ্ছে, সোনভদ্র থেকে বিপুল সোনা মিলতে চলেছে। এরজন্য খনিগুলি খুব তাড়াতাড়ি নিলামের প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে।