খুব শীঘ্রই পরিবারে আসতে চলেছে নতুন সদস্য, বন্ধু ভাস্বরের হাতে সাধ খেলেন অভিনেত্রী সোনালী

বর্তমানে স্টার জলসা ও জী বাংলা ধারাবাহিকগুলির প্রধান কেন্দ্রস্থান। এছাড়া বাংলা ধারাবাহিকের আরও কিছু কেন্দ্রস্থান আছে যার মধ্যে কালারস বাংলা, সান বাংলা, আকাশ আট প্রভৃতি। যেখানে বিকেল হলেই টেলিভিশন জগতটি মুড়িয়ে ফেলা হয় একের পর এক মনোরঞ্জনমূলক ধারাবাহিক দিয়ে। তবে টেলিভিশনে অনেক তারকারা আছেন যারা বাস্তবে অনেকেই স্বামী-স্ত্রী, আবার অনেকে সদ্য স্বামী-স্ত্রী হয়েছেন, আবার এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে অনেকেই পেয়েছেন সারাজীবনের মত একজন প্রিয় বন্ধুকে, না প্রিয় বন্ধু মানেই যে, সে তাঁর স্ত্রী বা তাঁর স্বামী হবেন তা কিন্তু নয়।

আসলে বন্ধু কথাটার অর্থ সবকিছুর উর্ধে। যার সঙ্গে তোমার মনের মিল হবে সেই তো প্রকৃত বন্ধু তাই না! আমাদের বঙ্গ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এরকম অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী আছেন যারা ইন্ডাস্ট্রি থেকে খুঁজে নিয়েছেন তাঁদের প্রিয় বন্ধুকে। আবার অনেকেই মনে করেন টলিপাড়া নাকি শুধুই আপাদমস্তক পেশাদারিত্বে মোড়া, এখানে নিজের কাজ ছাড়া সব অর্থহীন। এইসব বাক্যকে এক চুটকিতে উড়িয়ে দিলেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়, সোনালি চৌধুরী। তাঁদের দীর্ঘ ২৩ বছরের বন্ধুত্ব তা প্রমাণ করল।

 

খুব শিগগিরই সোনালী মা হতে চলেছেন। আর বান্ধবীকে সাধের অনুষ্ঠানে খাওয়ানোর জন্যে ভাস্বর এক্কেবারে বলরাম মল্লিকের সাজানো থালা হাতে নিয়ে পৌঁছে গেলেন অভিনেত্রীর বাড়ি। ভাস্বরের কথায়, ‘‘২৩ বছরের বন্ধুকে ভাল-মন্দ খাওয়াব না?” যদিও ভাস্বর এর কথায়, ‘মিষ্টি খেতে খুব ভালবাসে সোনালি। তাই তাঁর এমন দিনে মিষ্টিই তো তাঁকে খাওয়াতেই হবে। তাই মিষ্টি আর নোনতা খাবার ওর জন্য প্রথম ছোট্ট উপহার।’’

এভাবেই যেন খুব সহজেই বাঙালির এক চেনা প্রথা ভেঙে দিলেন ভাস্বর। আসলে বহুযুগ ধরে চলে আসছে হবু মাকে সাধ খাওয়ানোর রেওয়াজ একমাত্র মেয়েদেরই। ভেঙে দিলেন ভাস্বর এই রীতি। সালটা ছিল ১৯৯৮। সেখানেই ভাস্বর-সোনালীর প্রথম একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে কাজ। সেই থেকে বন্ধুত্ব। দিনের পর দিন তাঁদের বন্ধুত্ব নেয় গভীরতার রূপ। সেই টানেই মুখোমুখি দুই হেভিওয়েট টেলি তারকা। বন্ধুকে নিজের হাতে সাধ খাইয়ে খুব খুশি ভাস্বর। বললেন, “অনেক দিন ধরেই ইচ্ছে ছিল। শ্যুটিংয়ের চাপে হয়ে উঠছিল না। অবশেষে সখ মিটল। দারুণ ভাল লাগছে।” অন্যদিকে হবু মা সোনালিও জানালেন, ‘‘সবাই বলেন, কাজের দুনিয়ায় নাকি বন্ধুত্ব হয় না। কথাটা বোধ হয় ঠিক নয়। তা হলে ভাস্বর এ ভাবে ছুটে আসত না।’’

 

তবে অভিনেত্রীর দাবি, ভাস্বরের মতোই তাঁর একাধিক তারকা বন্ধু তাঁকে সাধ খাওয়াবেন। তবে শুধু ভাস্বরই খাওয়াননি অভিনেত্রীকে ‘রিটার্ন গিফট’ হিসেবে সোনালির মায়ের হাতের লুচি, সাদা আলুর তরকারি, মিষ্টি চেটেপুটে আযেশ করে খেলেন অভিনেতা। চিকিৎসকের কথা অনুযায়ী আগামী জুন মাসে সোনালির কোল জুড়ে আসতে চলেছে তাঁর প্রথম সন্তান। আপাতত অভিনয় থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে বাড়িতেই টানা বিশ্রামে রয়েছেন সোনালী।