নিজামুদ্দিন জমায়েতকারিরা হাসপাতালে নগ্ন হয়ে অশ্লীল আচরণ স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে

স্বাস্থ্য কর্মী ও চিকিৎসককে থুথু দেওয়ার অভিযোগ এর আগেই উঠেছিল। এবার নগ্ন হয়ে হাসপাতালে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ উঠল নিজামুদ্দিনের জমায়েতকারী একদলের বিরুদ্ধে। তারা নার্স দের সঙ্গে নানা অশালীন আচরণ করছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের এমএমজি জেলা হাসপাতালের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। তাবলীগ জমায়েত কারীদের যেসব কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছে সেখানে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

করোনা সংক্রমণ নিয়ে চিন্তিত দেশের বিভিন্ন মহল। এই পরিস্থিতিতে আরো জটিল করে নিজাম উদ্দিনের ধর্মীয় সভা। সেখানে বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজন জমায়েতের ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। ধর্মীয় সভা থেকে নিজ রাজ্যে ফেরতদের কয়েকজনের মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা গিয়েছে। এর মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। এর পরেই নিজামুদ্দীনে ধর্মীয় সভায় যোগদানকারীদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। উত্তরপ্রদেশের দিল্লির লাগোয়া শহর গাজিয়াবাদে 136 জনের ওই ধর্মীয় সমাবেশ ফেরত দিয়ে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। তাদের মধ্যে 6 জনের দেহে করোনা উপসর্গ দেখা যায। এর পরেই তাদের গাজিয়াবাদে এমএমডিসি হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু হাসপাতলে তারা নগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং মহিলা স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত অশ্লীল আচরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্র সিংহ চিঠিতে পুলিশকে অভিযোগ জানিয়েছে যে “সমস্ত জমায়েতকারীরা এই হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রয়েছে, তাদের কার্যকলাপে আমরা জেরবার। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকেই নিম্নাঙ্গে কোনও পোশাক রাখছে না। মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করছে। বিভিন্ন রকমের অশালীন গান শুনছে। এমনকী হাসপাতালের সাফাই কর্মীদের কাছ থেকে সিগারেট চাইছে তারা। চাহিদা অনুযায়ী জোগান দিতে না পারলেই দুর্ব্যবহার করতে শুরু করছে।”

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন-ওরা আইন শৃঙ্খল মানবে না। ওরা মানবতার শত্রু। মহিলা স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে যা করেছে ওরা তা জঘন্য অপরাধ। মধ্যপ্রদেশের ইনদওরে চিকিৎসকদের উপরে আক্রমণের যে ঘটনা ঘটেছে, তা যেন উত্তরপ্রদেশের কোথাও দেখা না যায়। নিজের প্রশাসনকে এই নির্দেশ দেন আদিত্যনাথ।