ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্র জিতে দিদিকে উপহার দেব’, কথা দিলেন রাজ চক্রবর্তী

আর মাত্র কয়েকদিন! বিধানসভা নির্বাচনের আগেই ময়দানে নেমে পড়েছেন রাজনৈতিক দুইদল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কেউ কারও মাটি ছাড়তে নারাজ। বাংলায় যেমন তৃণমূলকে হারাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি, তেমনই তৃণমূলও নিজেদের জমি কাউকে দখল হতে দেবে না। চলছে জোরকদমে তার প্রস্তুতি। যেমন তৃণমূলের ভারী ভারী নেতারা যোগ দিয়েছেন বিজেপি মহলে, তেমনি টলিউডের একাধিক তারকারা যোগ দিয়েছে তৃণমূলে। এখন দিদির মনোবল বাড়ানোর দায়িত্ব তাঁদের।

তাঁদের মধ্যে পরিচালক রাজ চক্রবর্তী কিছুদিন আগেই যোগ দিয়েছেন তৃণমূল, অন্যদিকে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ও সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন বিজেপিমহলে। তবে কানা ঘুঁষো শোনা যাচ্ছিলো যে, শ্রাবন্তীর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন রাজ চক্রবর্তী, তবে এখনও তা স্পষ্ট নয়। তবে রাজ কোন বিধানসভা কেন্দ্রের হয়ে লড়বেন তা ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে।

তবে এবার লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে। সবই তো হল এবার কে কোন জেলার হয়ে লড়বেন, সেটা না জানা গেলেও পরিচালক রাজ চক্রবর্তী দ্বারাচ্ছেন ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হয়ে, আজই সেটা জানা গিয়েছে। এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ” তিনি কথা দিচ্ছেন যে, বারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে জিতে দিদিকে উপহার দেবেন। এছাড়া মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) কাছে তিনি কৃতজ্ঞ যে উনি তাঁর নাম ভেবেছেন ভোটে দাঁড়ানোর জন্যে এবং যোগ্য মনে করেছেন। তবে তিনি চেষ্টা করবেন যে নিজের যা ক্ষমতা আছে তা সবটুকু দিয়ে মানুষের মন জয় করবেন।”

এছাড়া রূপোলি পর্দার মানুষ হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছনো সহজ ছিল নাকি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনো সহজ, বেসরকারি সংবাদসংস্থার এই প্রশ্নের উত্তরে পরিচালক জানান, “রূপালী পর্দা নয়, তাঁকে যেন সাধারণ মানুষ হিসাবেই ভাবা হয়। রূপালী পর্দার কথা আপাতত ভুলে, এখন শুধু ভাবুন, যে যদি অন্য পেশার মানুষ রাজনীতিতে আসতে পারেন, তাহলে রুপোলি পর্দার মানুষও আসতে পারেন রাজনীতিতে। রাজনীতি ও সিনেমা দুটো ক্ষেত্রই মানুষের কথা বলে, সমাজের কথা বলে। তারা মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।”

রাজের আরও দাবি, “খুব শীঘ্রই প্রচারে নেমে প্রথমেই তাঁর কাজ হবে বারাকপুরে যত ভোটার (প্রায় ২ লক্ষ) আছেন তাঁদের কাছে পৌঁছনো। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল লক্ষ্য কী সেটা বোঝাতে হবে সবাইকে। ব্যারাকপুর মাসল পাওয়ার ওরিয়েন্টেড জায়গা, সেখানে সবাইকে ডমিনেট করে রাখা হয়। সেখানে ঠিক শান্তি ফেরাবেন। তাঁর কাজ হবে ব্যারাকপুরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা। মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থাকা।”

এছাড়া তিনি জানান, “তিনি কাঁচরাপাড়ায়, হালিশহরে বড় হয়েছেন, কর্মসূত্রে তিনি কলকাতায় থাকলেও তিনি মনে প্রাণে হালিশহরের বাসিন্দা। তবে কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছন যায়, মানুষ কী চায়, সেটা আগে বোঝা দরকার। যদি তিনি সেটা বোঝাতে পারেন, তাহলে মানুষ তাঁকেই ভোট দেবেন। আমার বিশ্বাস, মানুষ আমার পাশে থাকবেন। আজকে এই দলে আছি, কাল অন্য দলে চলে যাব না, সেই প্রতিশ্রুতি আমি দেব। আমি কথা দিচ্ছি এই আসনটি জিতে দিদিকে উপহার দেব।”