শুকনো মুড়ি খেয়েই পা বাড়িয়েছেন অলিম্পিকে, এই তরুণী ভারতকে স্বপ্ন দেখিয়েছে সোনা জয়ের স্বপ্ন

News Desk

July 5, 2021 | 2:20 AM
blog image

কথায় রয়েছে পরিশ্রমের ফল সবসময় মিষ্টি হয় এবং তা অক্ষরে অক্ষরে প্রমান করে দিলেন বাংলার মেয়ে প্রণতি নায়েক। প্রণতির‌ বাবা পেশায় একজন বেসরকারি বাস চালক। নুন আনতে পান্তা ফুরোনো সংসারে তিন মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের রেখে যান পিংলায় তাদের মাসির বাড়িতে। ভারতের দীপা কর্মকার এর পর অলিম্পিকে দ্বিতীয় জিমন্যাস্ট হিসেবে নাম রয়েছে প্রণতির।

একসময় মুড়ি খেয়ে প্র্যাকটিস করতেন প্রণতি। আর্থিক অনটনের মাঝেও বড়ো কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন নায়েক পরিবারের এই মেজো মেয়ে। দীপা কর্মকারের পর এবার সকলের নজর রয়েছে প্রণতি নায়েকের ওপর। প্রণতির কথায়,’অলিম্পিক কি বুঝতাম না। আমার কোচ মিনারা বেগম বলেছিলেন যে, কেউ যদি জিজ্ঞেস করে তো স্বপ্ন কি, বলবি অলিম্পিক্সে খেলা। সেরকম বলতে বলতে না জানি কখন সত্যিই সেই স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরেছি। পরে সিনিয়র পর্যায়ে খেলার সময় বুঝতে পারলাম কতটা কঠিন অলিম্পিক্সের যোগ্যতা পাওয়া।’

আরও পড়ুন :   সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা মিলল বিরল প্রজাতির প্রানী, মুহূর্তে ভাইরাল হল ভিডিও!

পিংলা মাঠ থেকে শুরু হয় প্রণতির অলিম্পিক্সের যাত্রা। সেখান থেকে জেলা স্তরে যোগ্যতা অর্জন করার পর খেলার সুযোগ পান রাজ্যস্তরে। রাজ্য স্তরের খেলার জন্য তিনি এসে পৌঁছান কলকাতায়। কিন্তু কলকাতায় কোনো হোস্টেল না পাওয়ার দরুন তাকে থাকতে হতো বাড়ি ভাড়া করে। কিন্তু বাড়ি ভাড়া এবং তার খরচা চালানোর মতো সামর্থ্য তার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল। তাই স্টেডিয়াম লাগোয়া একটি বাড়িতে তিনমাস মেয়েকে রাখার জন্য অনুরোধ করেন প্রণতির বাবা। সেই বাড়িতে ঘরমোছার কাজের পাশাপাশি বিভিন্নরকম বাড়ির কাজ করতে হতো প্রণতিকে। পাশাপাশি নিজের প্র্যাকটিস ও করতেন তিনি।

আরও পড়ুন :   ধোঁকা দিয়েছে প্রেমিকা, মাঝ রাস্তায় থাপ্পড় মেরে গিফট করা স্কুটি কেড়ে নিল যুবক, তুমুল ভাইরাল ভিডিও

এরপর সেকথা তার কোচ অর্থাৎ মিনারা বেগমের কানে যেতেই তার বাড়িতেই থাকার জন্য আশ্রয় দেন প্রণতিকে। সেখানেই বছর খানেক থাকেন প্রণতি। এরপর জাতীয় স্তরে সোনা অর্জন করেন তিনি। এরপর হোস্টেল পান। প্রণতি জানান, সকালে ৩ ঘন্টা এবং বিকেলে ৩ ঘন্টা করে প্র্যাকটিস করতে হতো তাকে। যখন সবাই ডিম,কলা ও পুষ্টিকর খাবার খেতেন তখন তিনি কেবলমাত্র মুড়ি খেয়ে নিজের পেট ভরাতেন। এই ছোটখাটো ঘটনাগুলি তার জেদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। নিজেকে প্রমাণ করার জেদ তৈরি করেছিল সে।

আরও পড়ুন :   দুর্দান্ত নেচে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুললেন ডোনা গাঙ্গুলি ও সানা গাঙ্গুলি, তুমুল ভাইরাল ভিডিও

প্রণতি ঈশ্বরে ভীষণ বিশ্বাসী। তাই সবসময় নিজের ব্যাগে নিজের আরাধ্য দেবতা বাবা লোকনাথের ছবি রাখেন সব সময়। একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে কিভাবে প্রতিকূলতাকে জয় করে জীবনে এগিয়ে যাওয়া যায় তার বাস্তব উদাহরণ হল প্রণতি নায়েক। তার জীবনের লড়াই বহু নারীর অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবনের কঠিন মুহূর্তের মধ্যে যেভাবে লড়াই করে গিয়েছে সেটা প্রশংসা পাবার যোগ্য।


আরও পড়ুন

অর্থনীতিতে কুঠার আঘাত, আর্থিক সংকট কাটাতে এই দেশের তরুণরা বিক্রি করছে সিমেন

সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের গান গেয়ে তাক লাগালো বাঙালি কন্যা, তুমুল ভাইরাল ভিডিও

খিদে, অনাহার গিলে খেয়েছে ছেলেবেলা, মাত্র ৭ কেজি ওজন ৭ বছরের বাচ্চার

বাড়ি ফিরেই যুবানকে আদর করলেন মাসি, বোনপোর উদ্দেশ্য খোলা চিঠি শুভশ্রীর দিদির

ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানল প্রতিবন্ধকতা! সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় নজির গড়লেন দৃষ্টিহীন তরুনী

পুজোর আগেই ঝাঁ চকচকে বিউটি পার্লার খুললেন মধুবনী, সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু করল প্রচার

আস্ত লরিকে ভ্রাম্যমাণ রেস্টুরেন্ট বানিয়ে তাক লাগালেন বর্ধমানের যুবক, ব্যবসার পাশাপাশি করছেন জনসেবাও