ষাটের দশকে বিকিনি পরে অভিনয় করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন শর্মিলা ঠাকুর

ষাটের দশকে বলি ডিভাদের মধ্যে অন্যতম ফটৌডি বেগম শর্মিলা ঠাকুর। ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে বলে প্রথমে তার বাড়ির লোক গ্ল্যামার জগতে না আসতে দিলেও পরে তাঁকে আর কেউ বেঁধে রাখতে পারেনি। ফাটাফাটি অভিনয়ে নজরে এসেছিলেন তখনকার দিনের আট থেকে আশির। একরত্তি মেয়ে হয়ে উঠেছিলেন ষাটের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

তারপরেই প্রেমের ভালোবেসে বিয়ে করেন মনসুর আলী পটোডিকে। কথিত আছে ক্রিকেটের সঙ্গে গ্ল্যামারের মিলন হয়েছে খানিকটা তাঁদের হাত ধরেই। বলতে গেলে ‘বলিউড ঠাকুরানি’ ও ‘জেন্টলম্যানস গেম’-এর ‘গোল্ডেন কাপল’ তাঁরাই। তবে শর্মিলা ঠাকুর এবং মনসুর আলি খান পটৌদির দাম্পত্য জীবনেও আছে হাজার টুইস্ট। ঠাকুর পরিবারের কন্যা হয়ে তিনি হয়ে গিয়েছিলেন বেগম। শেষমেশ ধর্মকে ভেঙে ১৯৬৯ সালে মনসুর আলি খানকে বিয়ে করেছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। সেই কাহিনীও অন্য!

কিন্তু আজ আলোচ্য বিষয় এটি নয়। অন্য কিছু? জানেন কি বলিউডের আইকনিক অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর আজও পেজ-থ্রির শিরোনামে। বিখ্যাত ঠাকুর বংশের মেয়ে হয়েও শর্মিলা ঠাকুর ধরা পড়েছিলেন বিকিনি পোশাকে তার একাধিক মডেলিং শুটিং এর দরুন। ষাটের দশকে বিকিনি শ্যুট, ভাবলেই তখন যে গা কাটা দিয়ে উঠত অনেকের। কিন্তু নায়িকা তা করে দেখিয়েছিলেন। বিখ্যাত ঠাকুর বংশের মেয়ে হয়েও তাঁর এরকম রূপ দেখে তাজ্জব হয়েছিলেন অনেকেই, এই রেশ ধরে বিতর্কের শিরোনামেও পৌঁছেছিলেন শর্মিলা। তবে এই উন্মুক্ত এই পোশাকে ধরা পড়েছিলেন মনসুরের বেগম হওয়ার আগেই।

তবে শর্মিলা ঠাকুরের ফোটোগ্রাফাররাও একসময় চিন্তায় ছিলেন। এমনকী শর্মিলার এই ফোটোশ্যুট মানুষ কতটা গ্রহণ করবে তা নিয়েও যথেষ্ঠ সন্দেহ ছিল! এমনকি শোনা গিয়েছিল বিকিনি শুটিং-এর পর তাঁকে চাদর দিয়েও ঢেকে দেওয়া হতো। হবে নাই বা কেন বর্তমানে এ ধরণের দৃশ্য কোনো ব্যাপার না থাকলেও ষাটের দশকে এরকম তা কেউ কল্পনাও করতে পারত না।

এমনকি কয়েকটি সিনেমাতেও দেখা গিয়েছিল বিকিনি পড়ে সমুদ্রের ওপর স্কিও করেছেন শর্মিলা। তিনিই প্রথমবার লজ্জার ট্যাবু ভেঙে রূপোলী পর্দায় ভেসে উঠেছিলেন। সিনেমা ছাড়াও তিনি একাধিক কভার গার্ল হওয়ার জন্যেও বিকিনি শ্যুট করেছিলেন। সেই সময় বিকিনি পড়া ভারতীয় নারীর পক্ষে, বিশেষ করে সিনেমায় খুবই কঠিন কাজ ছিল।

বিকিনি ফটোশ্যুটের পর তাঁকে একাধিক সমালোচনার মধ্যে পড়লেও তাতে কোনও গুরুত্ব দেয়নি শর্মিলা। কেউ কেউ বলেছিলেন, নেটিজেনদের নজরে আসার জন্য তিনি বিকিনি শুটিং করেছিলেন, অনেকেই আবার বলতে শুরু করেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার জন্য শর্মিলা বিকিনি শ্যুট করেছেন। কিন্তু কারো কথা পাত্তা দেননি বলেই তিনি আজ সকলের কাছে বিশিষ্ট অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর হয়ে উঠতে পেরেছেন।