সুশান্তের পর ধর্মেন্দ্র, বলিউডের নেপোটিজমে তছনছ হয়ে গিয়েছে পুরো কেরিয়ার

বহু সময় বলিউডের অন্দরের সব খবর সামনে এসেছে বিভিন্নভাবে। এখন এই সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমা এত হওয়ায় কোনো ঘটনায় লুকোনো থাকেনা। আগে এমনটা না থাকলেও ছিল পেজ থ্রি। আর পেজ থ্রির পাতায় উঠে আসতো বলিউডের অন্দরের সব খবর।

গত বছর সুশান্ত সিং রাজপুতের অকস্মাৎ মৃত্যুর পর বলিউডের অন্দরের নানান কথা প্রকাশ্যে এসেছে। নেপটিজম, দলবাজি, একঘরে করে দেওয়ার মত বহু বিষয় সামনে এসেছে। তখন অনেকেই সাহস করে সরব হয়েছেন তাঁদের সাথে হওয়া অন্যায়ের ব্যাপারে। সম্প্রতি এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন শত্রুঘ্ন সিনহা। তিনি তাঁর যোগ্য সম্মান না পাওয়ার ব্যাপারে আওয়াজ তো তুলেছেন। এরই সাথে বেশ কিছু জনপ্রিয় তারকার কথা উল্লেখ করেছেন এবং দাবী করেছেন যে, তাঁদেরও যোগ্য সম্মান দেয়নি বলিউড।

প্রথমে আসা যাক হি-ম্যান ধর্মেন্দ্রর কথায়। হি-ম্যান ধর্মেন্দ্রও যে দলবাজির থেকে নিস্তার পাননি, সম্প্রতি এমনই দাবি করেছেন শত্রুঘ্ন সিনহা।

খবর, সেই সময় প্রযোজক-পরিচালক এবং অনুগামী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে একটি দল তৈরি করেন রাজেশ খান্না। যাতে কোনও ভাল চরিত্র অন্য কারও কাছে না যায়। কোনও ভাবে যদি কোনও ভাল চরিত্র অন্য কারও কাছে চলেও যেত, তাহলে সেই অভিনেতার সম্পর্কে নানা কথা রটিয়ে, কাজ ভাঙিয়ে আনারও অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর এই পরিকল্পনার হাত থেকে কোনওরকমে টিকেছিলেন, ধর্মেন্দ্র এবং মনোজকুমার। মনোজকুমার বেছে বেছে কাজ করতেন। এরই সাথে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার কাজেও হাত দেন তিনি। তবে ধর্মেন্দ্র মন দিয়ে শুধু অভিনয়ই করে গিয়েছিলেন। দলবাজিতে আপত্তি ছিল তাঁর। তাই কারও পদলেহন করার চেয়ে নিজের যোগ্যতায় কাজ পাওয়ায় মন দেন তিনি।

এছাড়া গোবিন্দর মতো প্রতিভাবান অভিনেতাকেও এই ইন্ডাস্ট্রি যোগ্য সম্মান দেয়নি বলে অভিযোগ করেন শত্রুঘ্ন। এমনকি কাপুর পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও দলবাজির জেরে একসময় কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন ঋষি কাপুরও।

নিজের আত্মজীবনীতে এই অভিযোগ করেন প্রয়াত ঋষি কাপুর। তিনি একের পর এক হিট ছবি দিলেও, একামাত্র অমিতাভই গুরুত্ব পেতেন ইন্ডাস্ট্রিতে। একসঙ্গে ছবি করলে, ভাল চরিত্রটি অমিতাভের জন্য আগে থেকে বেছে রেখে দিতেন পরিচালক-প্রযোজকরা। তাঁকে দেওয়া হতো তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। শত্রুঘ্ন এই অভিযোগগুলো এনে তাঁদের সবার সাথে হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটা আওয়াজ তোলেন।