সোমবার বিকেল থেকে রাজ্যের সব পুর শহর লক ডাউন

আশঙ্কা ছিল আগে থেকেই। এবার সেটাই সত্যি হল। সোমবার বিকেল থেকে লক ডাউন হয়ে যাচ্ছে কলকাতা সহ রাজ্যের সব পুর শহর।

রাজ্য জুড়ে এই নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে। রবিবার সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশ অনুযায়ী জন কার্ফু চলছে। এর মধ্যেই এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছুক্ষণের মধ্যেই নোটিফিকেশন জারি হবে।

[আরও পড়ুনঃ মৃত্যুপুরী ইতালি, একদিনে মৃত ৭৯৩]

পুর শহরগুলিতে কেবলমাত্র জরুরি ভিত্তিতে কিছু দোকান ও হাসপাতাল খোলা থাকবে বলে জানা গিয়েছে। চাল, ডাল, তেল সহ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসই কেবলমাত্র কেনা যাবে। সংখ্যায় খুব দোকানই খোলা থাকবে।করোনা পরিস্থিতি যাতে খারাপের দিকে না যায়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই নির্দেশিকা খুবই জরুরি ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই কলকাতায় তিন করোনা আক্রান্তের সংন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে দু’জন বেলেঘাটা আইডি-তে ও একজন আমরি হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন। বর্তমানে ভারত স্টেজ ২ তে আছে বলেই জানাচ্ছেন গবেষকরা। অর্থাত্‍ কমিউনিটিতে সংক্রমণ হয়নি এখনও। তবে সেটা কতদিন পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে, তা বোঝা যাচ্ছে না। আর সেইজন্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হচ্ছে বারবার।

শনিবারই জানা গিয়েছে, এক ৫৭ বছরের একজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত। তিনি সল্টলেকে আমরি হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন। কয়েকদিন আগেই তিনি জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রথম পরীক্ষাতে তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে ফের পরীক্ষা করা হয়। এবারও তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসতে চিকিত্‍সকরা জানিয়েছেন তিনি নিশ্চিত ভাবে করোনা আক্রান্ত। তবে তাঁর কোনও বিদেশ যাত্রার ইতিহাস নেই বলে জানা যাচ্ছে, আর তা থেকেই তৈরি হয়েছে নতুন আতঙ্ক। তবে কি ফেজ ৩-তে পৌঁছে গেল কলকাতা?

শুধু কলকাতা নয়, করোনা ভাইরাস ঠেকাতে গোটা দেশের ৭৫ টি জেলায় লক ডাউনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। ইতিমধ্যে গুজরাত, রাজস্থান, পঞ্জাব এবং ওডিশা সহ একাধিক রাজ্যে লক ডাউন করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা সহ বেশ কিছু পুর এলাকায় দ্রুত লক ডাউনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

জানা যাচ্ছে, সেই মতো কলকাতা সহ রাজ্যের পুর এলাকাগুলিতে লক ডাউনের নোটিশ জারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবান্নের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, আগামীকাল সোমবার বিকেলের পর থেকে এই লক ডাউন জারির নির্দেশ জারি করা হবে। সকাল থেকে সমস্ত কিছু খোলা থাকবে। সেই সময় কয়েকদিনের রসদ জোগাড় করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। এরপর বিকেলের দিকে সমস্ত কিছু স্তব্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা। তবে সমস্ত অত্যাবশকীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।