১৪ বছরের বড় পুটুপিসিকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ‘শ্রীময়ী’র ডিংকা, সোহিনীর সঙ্গেই সুখে সংসার করছেন সপ্তর্ষি

প্রত্যেকটা মানুষ জীবনে বাঁচতে চায়। তবে প্রত্যেকেরই বেঁচে থাকার জন্য শুধু খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের প্রয়োজনই হয় না তার সাথে সাথে ভালোবাসারও প্রয়োজন হয়। নিজের প্রতি ভালোবাসার মূল সূত্র ধরেই মানুষ তার বাবা-মা, ভাইবোন, সন্তানসন্ততি, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে ভালোবাসে। তবে ভালোবাসা কিন্তু অন্ধ ভালোবাসা কোনো জাত-পাত বা উঁচু নিচু ধনী কিংবা গরিব দেখে হয়না। এই একে অপরের মিলন থেকেই ভালোবাসা জন্মায়।

শ্রীময়ী ধারাবাহিকের জনপ্রিয় অভিনেতা সপ্তর্ষি মৌলিক। আরেকজন হলেন ‘খড়কুটো’ ধারাবাহিকের ‘পুটু পিসি’ অর্থাৎ সোহিনী সেনগুপ্ত। আসলে বাস্তব জীবনে এই দুইজন স্বামী-স্ত্রী। এদের মধ্যে বয়সের তফাৎ প্রায় ১৪ বছরের। কিন্তু তাদের দুজনেরই অভিনয়ের দক্ষতা ভালোই। না জোর করে নয়, ১৪ বছরের বড় শিক্ষিকা সোহিনীরই প্রেমেই পড়েছিলেন একসময় সপ্তর্ষি। দুজনেই পেশায় নাট্যশিল্পী। আর সেই নাট্যমঞ্চের ধীরে ধীরে তাদের প্রেম হয়ে যায়। সপ্তর্ষি তখন নতুন, সবে অভিনয় হাতেখড়ি হচ্ছে তাও আবার সোহিনীর বাবার মাধ্যমে, কেননা সোহিনীর বাবা ছিলেন একজন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক। সেই সময় অভিনেত্রী সপ্তর্ষি সোহিনীকে দেখে ভুলে গেলেন বয়সকে, আর ছাত্রের প্রেমে পড়লেন শিক্ষিকাও, ভুলে গেলেন বয়স, জাত, উচ্চতা, গঠনের গন্ডী।

কথা বলতে বলতেই তাদের সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল। কিন্তু চরহাট করেই সপ্তর্ষি সোহিনীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ফেললেন ডিংকা। এর আগেও অভিনেত্রী সোহিনীর বিয়ে হয়েছিল। ২০০৬ সালেই তাদের ডিভোর্স হয়। আর সেই জন্যই অভিনেত্রী প্রথমে রাজি হননি। যেহেতু তিনি অসংখ্যবার আঘাত পেয়েছেন তাই তিনি দ্বিতীয়বার আর কোনো সম্পর্কে জড়াতে চাননি। অবশেষে না মেনে উপায় নেই। নাছোড়বান্দা প্রেমিকের প্রেমে পরেই গেলেন।

সপ্তর্ষি নিজে সরাসরি তার বাবার কাছে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আর সেই কারণেই সোহিনীর বাবা সপ্তর্ষির বিনয়ী ব্যবহার এবং ছেলেমানুষীতে রাজি না হয়ে পারলেন না সোহিনীর বাবা।অবশেষে দুজনেরই মতে ২০১৩ সালে সংসার পাতেন এই তারকাজুটি। দেখতে দেখতে প্রায় ৭ বছর সংসার জীবন কাটিয়ে ফেললেন তাঁরা। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে নেই কোনো সংকোচ। ভাঙেনি তাদের মনোবল। এর পাশাপাশি দিব্যি সংসার করে যাচ্ছেন তারা এই সুখী দম্পতি।