১৪ বছর একসঙ্গে থেকেও পড়লো ছেদ, সর্ম্পক ভাঙলেন দুই সমকামী পুরুষ

সমকামিতা কি অপরাধ? এই প্রশ্ন করলে তিনরকম উত্তর আসতে পারে। কেউ এর পক্ষে, কেউ বিপক্ষে আবার কেউ মন্তব্য করবেন না বলে এড়িয়ে যাবেন। যদি পক্ষে হয়ে ভাবা যায় তবে এটাও একটা সম্পর্ক। একটা নতুন কিছু তৈরি। হতে পারে এই সম্পর্ক প্রজননে বাঁধা দেয়, কিন্তু প্রজনন কি শেষ অস্ত্র? প্রজনন হলেই কি বাহুবল নাকি প্রজনন হলেই সাম্রাজ্য রক্ষা? উত্তর অবশ্যই পাঠকদের নিজস্ব বিচার্য বিষয়। আজকের প্রতিবেদনে কথা হবে এক সমকামী দাম্পত্যের বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে।

একজন অপূর্ব আসরানি আর অন্যজন সিদ্ধান্ত। এই অপূর্ব একজন জাতীয় পুরস্কার প্রাপক এডিটর। তিনি তিনি মানবাধিকার নাটক আলিগড় লিখেছেন , কোর্টরুম নাটক ফৌজদারি বিচার: বিহাইন্ড ক্লোজড ডোরস , সহি-রচনা করেছেন এবং শহীদ  চলচ্চিত্রটি সম্পাদনা করেছেন, জনপ্রিয় গুন্ডা চলচ্চিত্র সত্য  সম্পাদনা করেছেন এবং এছাড়াও ওয়েব ইন মেড ইন হ্যাভেন তিনি সনি মিউজিক ইন্ডিয়ার জন্য তের মেরা প্যার সংগীত ভিডিওর পরিচালকও ।

গুণে কোনো অংশে কম নন, শুধু সম্পর্কে, ইমোশনের দিক থেকে খানিকটা ব্যতিক্রমী। প্রায় ১৪ বছর একসঙ্গে সময় কাটান অপূর্ব ও সিদ্ধান্ত। কিন্তু হটাৎ তাদের সম্পর্কে ছন্দপতন। সমকামীদের অধিকার নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপক এডিটর অপূর্ব আসরানি (Apurva Asrani)। এরপরেও কি এমন হল এই দুইজনের?

এদিন অপূর্ব ঘোষণা করেছেন,’অত্যন্ত দুঃখের খবর। সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমার বিচ্ছেদ হয়েছে। সমকামী সমাজে আমরা দুজনে আদর্শ ছিলাম। সে কারণে এটা আরও হতাশার। কিন্তু, ১৪ বছরে আমাদের প্রতিটা মুহূর্ত মূল্যবান। সমকামী দম্পতিদের থেকে প্রেরণা নেওয়ার খুব বেশি নজির ভারতে নেই। আমরা সেই পথ বেছে নিয়েছিলাম। ভারতে সমকামী দাম্পত্যের ক্ষেত্রে আমরাই প্রথম প্রজন্ম। সাহসিকতারল সঙ্গে আমরা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশও করেছি। আমরা কোনও আক্ষেপ নেই।’ এরইসঙ্গে তিনি তার ব্যাক্তিগত জীবনকে সন্মান জানিয়ে লেখেন, ‘সবাইকে বলতে চাই, অনুগ্রহ করে আমাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জল্পনা ছড়াবেন না। এটা কঠিন সময়। ভালোবাসার দায়বদ্ধতা ও নিশ্চিত ঘর খোঁজার আশা সবসময় থাকে। কখনও বিশ্বাস হারাতে নেই।’