বাঘের মুখ থেকে স্বামীকে বাঁচানোর গল্প, TRP বাড়াতে মিথ্যা গল্প ফেঁদে ট্রোলের শিকার ‘দিদি নং ১’-এর রচনা

4465

জি বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় গেম শো হলো ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ (Didi No 1)। বেশিরভাগ সময়ই দিদি নাম্বার ওয়ানের মঞ্চে দেখা যায় মানুষের জীবন মরণ লড়াই এর গল্প। এরকমই নিজের জীবন সংগ্রাম দর্শকমহলে সঙ্গে সোমবার ভাগ করে নেন সুন্দরবন থেকে আগত এক অংশগ্রহণকারী জোৎস্না। যার জীবন কাহিনী শুনে হা হয়ে যেতে হয়েছে স্বয়ং হোস্ট রচনা ব্যানার্জিকেও (Rachana Banerjee)। সুন্দরবনের বাঘের কবল থেকে স্বামীকে বাঁচিয়ে আনার গল্প তুলে ধরেছেন সকলের সামনে।

সুন্দরবনের জ্যোৎস্না বলেছেন, বাঘটা একেবারে লাভ দিয়ে তাঁর স্বামীর ডান কাঁধের ওপর বসে ছিল। আগেপিছু না ভেবেই তিনিও তখন তাঁর স্বামীকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। লাফ দেন বাঘের পিঠের ওপর। আঙুল দুটো বাঘের কানের ভিতর ঢুকিয়ে জোরে টেনে বার করেন স্বামীকে। এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে জ্যোৎস্না দৃঢ়ভাবে জবাব দিয়ে বলেছেন, “আমি ভেবেছি মরতে হলে দুজনেই মরবো!” অনবদ্য এই সাহসী মহিলার জীবন সংগ্রামের গল্প শুনে স্তব্ধ হয়েছেন সবাইই।

আরও পড়ুন:   ‘ও সাকি সাকি’ গানে ফাঁকা ঘরে দুর্দান্ত বেলি ড্যান্স তিন সুন্দরী যুবতীর, প্রশংসার ঝড় নেটদুনিয়ায়

এরই মধ্যে কিছু নেটনাগরিক পুরো সত্য যাচাই না করেই বানিয়ে ফেলেছেন একাধিক মিম। জি বাংলার (Zee Bangla) ফেসবুক পেজে চ্যানেলের তরফ থেকে ছোট্ট যে প্রোমো শেয়ার করা হয়েছিল সেটাকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে একাধিক মিম। ভিডিওতে চোখ রাখলেই দেখা যাচ্ছে, জ্যোৎস্নার স্বামীর ডান হাত জামার ভিতরে রয়েছে। অনেকেই মনে করেছেন কাটা হাতের মিথ্যে গল্প বানিয়ে দর্শককে বোকা বানিয়েছে জি বাংলা। শুধুমাত্র চ্যানেল টিআরপির পিছনে দৌড়াতে গিয়ে এমন গল্প তুলে ধরেছেন দর্শকের কাছে। কারণ জামার তলা দিয়ে অস্তিত্ব রয়েছে সেই হাতের। যদিও আসলে গল্পটা একেবারেই ভিন্ন। জি বাংলা চ্যানেলের তরফ থেকে কখনোই দাবী করা হয়নি যে সেই উদ্দিষ্ট ব্যক্তির হাতটি কাটা গিয়েছে। বরং তাঁর স্ত্রী চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর হাত অবশ হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন:   এই প্রথম ছেলেকে নিয়ে ক্যামেরার সামনে সোনালি, থাকছেন ‘দিদি নং ১’-এও!

জি বাংলার এই গেম শো দিদি নাম্বার ওয়ানকে ট্রল করতে গিয়ে নিজেই ফেসবুকে চরম কটুক্তি শিকার হয়েছে ফেসবুকের ওই পেজ। কিছু কিছু নেটিজেন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পেজের এডমিনকে আইনি ভয় পর্যন্ত দেখিয়েছেন। সেই পেজের শেয়ার করা মিম ভিডিওটির কমেন্ট বক্সে চোখ রাখলে দেখা গিয়েছে হাজারো কমেন্ট। যেখানে ৯০% নেটিজেনরা এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

নেটিজেনদের বক্তব্য সুন্দরবনের খেটে খাওয়া মানুষদের নিয়ে এরকম মশকরা করা একেবারেই উচিত নয়। যারা পুরো সত্য না জেনে পুরো দিদি নাম্বার ওয়ানের এপিসোড না দেখে এই অমানবিক ভিডিও বানিয়েছেন তাদেরকে তীব্র ধিক্কার জানানো হয়েছে নেট মাধ্যমে। নেটিজেনদের দাবি, চারপাশে আরো অনেক খোরাক আছে যা দিয়ে মজার ভিডিও নিমেষেই বানানো যায়। সেগুলোর উপর চোখ না রেখে এই ধরনের সত্য কাহিনীর ওপর বেস করে ট্রোল ভিডিও বানানো সমাজের জন্য একেবারে অমঙ্গল।

আরও পড়ুন:   শ্রীদেবীর ‘হাওয়া হাওয়াই’ গানে তুমুল নাচ সকলের প্রিয় ‘মিঠাই’ রানীর, মূহুর্তে ভাইরাল ভিডিও

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অনেকেই মেনে নিয়েছেন যে দিদি নাম্বার ওয়ানে মাঝেমধ্যে টিআরপির দৌড়ে অনেক কিছু অবাস্তব দেখানো হয়ে থাকে। তবে এই পরিবারকে অনেকেই চেনেন একদম কাছ থেকে। তাই তাঁদের দাবি এই ঘটনা ১০০% সত্যি। বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার মত ঘটনা সুন্দরবনের প্রত্যেকটি মানুষের রোজকার জীবন সংগ্রামের অন্তর্গত। তাই তাঁরা মনে করেন এহেন বিষয়ে সঠিক তথ্য যাচাই না করে কোনো রকম ট্রোল বা মিম ভিডিও না বানানোই কাম্য।