বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করানোর আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সরকারি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্র। এবার একই রাস্তায় হাঁটল রাজ্য সরকারও। শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছেও তিনি আবেদন করলেন, কর্মীদের যতটা সম্ভব বাড়ি থেকে কাজ করানোর।

এক সপ্তাহ আগে পর্যন্তও নিশ্চিন্তে ছিলেন শহরবাসী। দেশের অন্য প্রান্তে নোভেল করোনার প্রকোপ দেখা দিলেও, বাংলায় তার আঁচ পড়েনি। কিন্তু গত পাঁচ-ছ’দিনে দুই বিদেশফেরত তরুণের শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাস ধরা পড়ায় একধাক্কায় ছবিটা পাল্টে গিয়েছে। উদ্বেগ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

[আরও পড়ুনঃন্যায্যমূল্যে জৈব সানিটাইজার বিক্রি করছে রাজ্য]

শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগামী সোমবার থেকে রাজ্য সরকারের অফিসে কর্মচারীদের উপস্থিতি কমানো হবে। ৫০ শতাংশ কর্মী বাড়ি থেকে কাজ করতে পারবেন। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাকিরাও সেই সুযোগ পাবেন।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আগামী সপ্তাহ থেকে রোটেশন পদ্ধতিতে কাজ করবেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। ই-অফিস পরিষেবার মাধ্যমে ৫০ শতাংশ কর্মী বাড়ি থেকে কাজ করবেন। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত রোস্টার সিস্টেম থাকবে।’ ‘

একইসঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতেও কর্মীসংখ্যা কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, ততদিন বেসরকারি সংস্থাগুলিতে কর্মীসংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হোক। একদিন ৫০ শতাংশ কর্মী অফিসে আসবেন।

বাকিরা বাড়ি থেকে কাজ করবেন। পরদিন উলটো হবে। অর্থাত্‍ আগেরদিন যাঁরা বাড়ি থেকে বসে কাজ করেছিলেন, তাঁদের অফিসে যেতে হবে। আর যাঁরা অফিসে গিয়েছিলেন, তাঁদের বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ পাবেন।’

শুক্রবার ফের এক বার রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, করোনা আক্রান্ত হলেই ভয় পেতে হবে না। সঠিক সময়ে চিকিত্‍সা হলে সকলেই সুস্থ হয়ে উঠবেন। এ দিন নবান্নে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, ”করোনায় আক্রান্ত হলেই ভয় পাবেন না। বরং উপযুক্ত চিকিত্‍সা করান। সঠিক সময়ে চিকিত্‍সা হলেই সুস্থ হয়ে যাবেন।