শুধু এপ্রিলেই কাজ হারিয়েছেন ২ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ, বাড়বে আরও! বলছে সমীক্ষা

করোনার যেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা ঘটিয়েছে। জাতিসংঘ এর আগে জানিয়েছে যে করোনার ফলে বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি জনগণ কাজ হারাতে পারে। ভারতে জাতিসংঘের সতর্কতা সত্য হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে, করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউনের প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়েছে দেশের কর্মসংস্থানে। লকডাউনের কারণে, সমস্ত উত্পাদন দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। কারখানা, পরিবহন, ই-বাণিজ্য, নির্মাণ কাজ প্রায় সব বন্ধ রয়েছে। ফলস্বরূপ, সারা দেশে বেকারত্বের একটি করুণ চিত্র ধরা পড়ছে। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমিকের জরিপে সেই করুণ পর্বটি প্রতিফলিত হয়েছে।

একমাত্র এপ্রিল মাসে, ভারতে 20 থেকে 30 বছর বয়সী ২ কোটি ৭০ লক্ষ তরুণ তাদের চাকরি হারিয়েছে। 30 থেকে 40 বছর বয়সের মধ্যে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ তাদের চাকরি হারিয়েছে। সব মিলিয়ে এপ্রিলে প্রায় ৬ কোটি তরুণ-তরুণী তাদের চাকরি হারিয়েছে। যা মোট বেকারত্বের 52 শতাংশ। তরুণ প্রজন্মের চাকরি হারানোর এই প্রবণতা ভয়াবহ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমনটাই বলছে, দেশের অর্থনীতির থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমির (CMIE) সাম্প্রতিক রিপোর্ট।

সিএমআইই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে লকডাউনের কারণে দেশের ৮৪ শতাংশ পরিবারের আয় কমেছে। কমপক্ষে 34 শতাংশ পরিবার সঞ্চিত টাকা ভাঙ্গিয়ে আর এক সপ্তাহ চলতে পারবে। তার চেয়ে বেশি নয়। সিএমআইই বলছে যে এই স্বল্প আয়ের পরিবারগুলিকে বাঁচাতে তাদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা দরকার।

ভারতে করোনার প্রাদুর্ভাবের আগেও অর্থনীতি খুব একটা ভাল জায়গায় ছিল না। তখন বেকারত্বের হার ছিল প্রায় 6 শতাংশ। কিন্তু করোনার অর্থনীতি ভেঙে গেছে। মাত্র দুই মাসে বেকারত্বের হার ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৭ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। তবে আশাবাদী বেকারত্বের হার এবার প্রায় কিছুটা কম হবে। ১০ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে বেকারত্বের হার ২৪ শতাংশ। অর্থাত্‍ আগের তুলনায় খানিকটা কমেছে।