লাইফ স্টাইলঅর্থনীতি

ঝিনুক চাষ করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করুন, জেনেনিন পদ্ধতি

আমরা সকলেই জানি সমুদ্রের ঝিনুকের মধ্যে মুক্তা পাওয়া যায়। তবে আপনাকে শুধু মুক্ত খোঁজার জন্য আর কখনো সমুদ্র যেতে হবে না। এখন বালতি বালতি মুক্তা তৈরি হবে আপনার বাড়ির উঠানে। সাধারনত মুক্তা সমুদ্রের অয়েস্টারেই মিলে এমন ধারণাটি সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়েছে কেরলের একজন কৃষক।

এই কৃষক লক্ষ লক্ষ টাকা উৎপাদন করছেন তার নিজের বাড়িতে পুকুর বানিয়ে মুক্তা চাষ করে। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিদেশীরা তার কাছ থেকে মুক্তা ক্রয় করছেন। কেরালার কাসারগেদ অঞ্চলের বাসিন্দা কে. জে. মাথাচান এমন অসম্ভব কে সম্ভব করে দেখিয়েছেন।

মুক্তা ঝিনুক থেকেই তৈরি হয় তা আমরা সকলেই জানি। ‘মলাস্কা’ পর্বে অন্তর্গত এক ধরনের প্রাণীর নাম হল ঝিনুক। মূলত ‘পাল অয়েস্টার’ বলা হয় মুক্তা উৎপাদন ঝিনুক গুলিকে। শুধু ‘পাল অয়েস্টার’ নয় আরো বিভিন্ন ঝিনুক গোত্রীয় থেকে মুক্তা তৈরি হয়।

পুকুরের জল একদম পরিষ্কার রাখতে হবে যদি আপনি মুক্ত ফলাতে চান। আসুন খুব বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক যে তার মাথায় কিভাবে এই চিন্তা ভাবনা আসলো এবং তা কিভাবে সফল করা যায়। টেলিকমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর ছিলেন কে. জে. মাথাচান। খবর অনুযায়ী জানা গেছে তিনি সৌদি আরবের কিং ফাহদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন।

সেই সময় তাঁর কাছে একটি সুযোগ এসেছিল চীনের পক্ষ থেকে। তিনি ইংরেজি থেকে আরবিক অনুবাদের কাজের পান চীনের ‘আরামকো অয়েল কম্পানিতে’। তিনি চীনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন কিছুদিনের জন্য। খবর অনুযায়ী জানা গেছে তার মাছ নিয়ে আগাগোড়াই খুব আগ্রহ ছিল। আর তিনি সেখানে গিয়ে মাস থেকে শুরু করে কিভাবে পুকুরে মুক্তা ফলায় সেটাও শিখে এসেছেন।

এই ধরনের রিসার্চের কথা ভারতের খুব কম মানুষই শুনে থাকেন। তিনি ভাবেন তার জীবন বদলে দিতে পারে যদি তিনি এই ব্যাপারটি রপ্ত করে নেন। কে. জে চীনে এই রিচার্জ সম্পর্কে ডিপ্লোমা করতে চলে আসে সৌদি আরবে চাকরি ছেড়ে। কোর্স কমপ্লিট করে ঘরের ছেলের ঘরে ফিরতে ৬ মাস সময় লাগে। তিনি মুক্ত চাষ শুরু করেছেন ১৯৯৯ সালে থেকে।

তিনি আরো বললেন, কে.জে মাথাচান আরও বলেন, “খুব দ্রুতই আমি সি’দ্ধান্তটা নিয়ে ফেলেছিলাম। বহু লোকই সেই সময়ে আমাকে এই কাজে নামতে বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, এই ধরনের চাষের কাজে সাফল্য আসবেই।” মাথাচান ৫০ বালতি মুক্ত উৎপাদন করেন ১৮ মাসে তার বহু রিসার্চের পরে। রিচার্জের জন্য তিনি পরিষ্কার সচ্ছল আনান সুদূর মহারাষ্ট্র থেকে।

তিনি বলেন, “একদম প্রথম-প্রথমই আমি ১.৫ লক্ষ টাকা মুক্তোর চাষের কাজের জন্য খরচ করেছিলাম। আর সেখানে থেকে ৪.৫ লক্ষ টাকা উপার্জন করি আমি। অর্থাৎ প্রথমেই প্রায় ৩ লক্ষ টাকার লাভ, যে অঙ্কটা আমিও কখনও কল্পনা করিনি।” মাথাচান এই অসাধ্যকে সাধ্য করার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “মূলত তিন ধরনের মুক্ত রয়েছে- প্রাকৃতিক, কৃত্রিম এবং কর্ষিত। কর্ষিত মুক্তই হচ্ছে আমি যেগু’লি বিগত ২১ বছর ধরে আমা’র পুকুরে ফলাচ্ছি। সাধারণত পরিষ্কার জলেই চাষ সম্ভব এই ধরনের মুক্তের।”

মাথাচানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে অস্ট্রেলিয়া, কুয়েত, সুইজারল্যান্ড ও আরবে কিভাবে ভারতের মুক্তার চাহিদা বৃদ্ধি হচ্ছে? উত্তরে তিনি বলেন,“ভারতের বাজারে মূলত যে মুক্তগু’লি পাওয়া যায়, সেগু’লি সাধারণত কৃত্রিম হয়। তারা আসল দেখতে হলেও তাদের মধ্যে থাকে সিন্থেটিক। আর সেই কারণেই ভারতে এগু’লি এতটা পরিমাণে সস্তা। সত্যিকারের মুক্তের ১ ক্যারেটের দাম ৩৬০ টাকা এবং তা ১ গ্রামের দাম প্রায় ১৮০০ টাকার কাছাকাছি।”

মাথাচান নিজের জমিতেই কৃত্রিম ট্যাঙ্ক বসিয়েছেন উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য। মাথাচানের মুক্তার কারখানা থেকে ইতিমধ্যেই ঘুরে এসেছেন লিবিন কুরিয়ান নামের এক ইউটিউবার। তিনি বলেন,“ওই ট্যাঙ্কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মিটারের কাছাকাছি, চওড়ায় ১৫ মিটার এবং গভীরতা ৬ মিটারের একটু বেশি। এই ধরনের ব্যবসায়িক বু’দ্ধি আমি কখনও দেখিনি। সত্যিই অসাধারণ বু’দ্ধি লোকটার। শুধু মুক্তই নয়। জমিতে নারকেল থেকে শুরু করে ভ্যানিলা, স্থানীয় নানাজাতের আমও ফলাচ্ছেন মাথাচান।”

Related Articles

Back to top button