অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে নিয়ে উধাও মেসোমশাই, তিন মাস পর অবাক কাণ্ড

ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের পাকুন্দিয়া এলাকায়। প্রেম, ভালবাসা মাঝে মাঝে মানুষকে অন্ধ করে দেয়। সে কারণেই প্রেম মানে কোনও বয়স, কোনও নিয়ম নয়। সমাজ যতই আঁকাবাঁকা চোখে দেখুক না কেন, তা যতই কঠোর মনে হোক না কেন, প্রেমের ক্ষেত্রে কিছুই কিছুই বাধা নয়। ‘প্রেম মানেই কোনও বাধা নয়’ – কয়েকশ বছর ধরে চলে আসা এই উক্তিটির আসল প্রমাণ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বীর পাকুন্দিয়ায় পাওয়া গেছে।

অপান খালু আবদুল হক তার স্ত্রীকে ছেড়ে স্কুলগামী ভাতিজি নিয়ে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনার তিন মাস পরে ভৈরব পুলিশ ভৈরব ঝুমাকে ভৈরবের পঞ্চবতী এলাকার বাসিন্দা ধন মিয়ার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে খালু আবদুল হককে আটক করে। গ্রেপ্তার আব্দুল হক পাকুন্দিয়ার জামসাইদ-তাতারকান্দা এলাকার রোস্তম আলীর ছেলে। তার দেহ দেওয়ার পরে আবদুল হকের স্ত্রী সুরমা বেগম তাকে কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল কোর্টে অপহরণ করে এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযোগ দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত পরে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জামসাইদ এলাকার সবজি বিক্রেতা আবদুল হক গত জুনে স্ত্রীকে রেখে তার বড় বোনের অষ্টম শ্রেণির মেয়েকে নিয়ে নিখোঁজ হন। এর পর থেকে তারা গোপনে বিয়ে না করে স্বামী-স্ত্রী হয়ে ভৈরব ও রায়পুরা অঞ্চলে থাকতেন। মেয়ের মা এবং খালা ভৈরব এসে পঞ্চবতী এলাকার মেয়েটির ছবি দেখালে তারা তাকে খুঁজতে চেয়েছিল।

আবদুল হকের স্ত্রী জানান, গত তিন মাস ধরে তিনি আমাদের কাছ থেকে কোনও জিজ্ঞাসাবাদ না করে আমার বোনের মেয়ের সাথে পালিয়ে এসেছিলেন। আমি এ জাতীয় জঘন্য কাজ করার জন্য আমার স্বামীর জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। মেয়ের মা বলেছিলেন যে সে আমার মেয়েকে ফুসিতে নিয়ে এসেছিল। আমরা খুব বেশি অনুসন্ধান করতে পারি নি এবং খবর পেয়ে ছুটে এসেছি ভৈরবকে।

আমি এখানে এসে দেখেছিলাম যে তাদেরকে স্থানীয়রা অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য আটক করেছিল। আমি তার শাস্তি চাই। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানার এএসআই আসাদ মিয়া বলেছিলেন, “খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের হেফাজতে থাকাকালীন আবদুল হক ও মেয়েকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি।” এ ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।