১০০০ কিমি সাইকেল চালিয়ে মাঝপথে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল পরিযায়ী শ্রমিকের

বাড়ি ফেরার পথে মারা গেলেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। তবে এবার হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে মৃত্যু নয়। এবার মৃত্যুর কারণ একটি সড়ক দুর্ঘটনা। পরিযায়ী শ্রমিক গাড়ির চাকা দ্বারা পিষ্ট হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। লক্ষ্ণৌতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয় ও পুলিশের সহায়তায় শ্রমিকের ম্তদেহ বিহারের পূর্ব চম্পারণে প্রেরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সাগির আনসারী বিহারের পূর্ব চম্পারানের বাসিন্দা। তিনি তার স্ত্রী ও তিন সন্তান মিলে সংসার করতেন। তিনি আরও কিছুটা উপার্জনের আশায় দিল্লিতে শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন। কিন্তু হঠাৎ সে সমস্যায় পড়ে গেল। হাতে টাকা নেই। তাই খাবার মেলে না। এদিকে, তিনি বাড়িতে একটি পয়সাও পাঠাতে পারছেন না। তাই তিনি যে কোনও উপায়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ভাবেন। সেই অনুসারে, ৫ মে আনসারি দিল্লী ছেড়ে সাইকেলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তাঁর সাথে আরও সাতজন পরিযায়ী শ্রমিক ছিলেন। আধ রাস্তায় পৌঁছতে তারা পাঁচ দিন সাইকেল চালিয়েছিল। লখনউ পৌঁছে তিনি বিশ্রাম নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তদনুসারে, প্রত্যেকে নিজের সাইকেলগুলি রাস্তার পাশে রেখে খেতে শুরু করল।

এই মুহুর্তে একটি গাড়ি ছুটে যায় আনসারীর দিকে। চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। আনসারিকে পিষে গাড়িটি একটি ডিভাইডারে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন যে দুর্ঘটনাটি দেখে ড্রাইভার গাড়ি থেকে নামেন। প্রথমে তিনি আনসারিকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে রাজি হন। তবে মুহূর্তের মধ্যে ভাবনায় বদল। আর্থিক সাহায্য করতে অস্বীকার করে অভিযুক্ত গাড়িচালক। ঘটনাস্থল ছেড়ে চলেও যায় সে।

ততক্ষণে, স্থানীয়রা এলাকায় জড়ো হয়েছিল। খবরটি পুলিশের কাছেও পৌঁছেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আনসারীর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করেছে। তারপরে তিনি তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে দিয়ে বিহারের পূর্ব চম্পারন প্রেরণ করার ব্যবস্থা করেন।