নিউজবিনোদন

হাথরস কান্ড নিয়ে মুখ খুললেন নওয়াজউদ্দিন, বললেন তাঁর পরিবারের সঙ্গে হওয়া নির্যাতনের কথা

সম্প্রতি আবারও একটি ভয়ানক ঘটনা ঘটে গেছে আমাদের এই ভারতবর্ষে। উত্তরপ্রদেশের নির্যাতিতা মেয়েটির কথা আপাতত আমরা সকলেই জানি। বারবার পৈশাচিক অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হচ্ছে ভারতের নারীদের। ভারতের জনগণের বারবার সোচ্চার হয়েও কিছুতেই এই সমস্ত ঘটনা থামাতে পারছেনা। সম্প্রতি বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উত্তরপ্রদেশের এই দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা যায়। তারই মধ্যে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা নাসির উদ্দিন সিদ্দিকী কে অন্য আঙ্গিকে কথা বলতে শোনা গেল। তিনি নিজের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন,”আপনি বলিউড তারকা অথবা শিল্পপতি, যাই হোক না কেন, তাতে ওদের কিছু এসে যায় না। আপনার কথা কিছুতেই ওরা কানে তুলবে না। ওদের কাছে একটাই বিষয় গ্রহণযোগ্য, সেটি হল আপনি কোন জাতের”। কথাগুলো বলতে বলতে গলা ধরে আসছিল অভিনেতার। বোঝাই যাচ্ছিল তার কোন অভিজ্ঞতার কথা তিনি বলতে চান সকলকে।

হ্যান্ডসাম গুড লুকিং না হয়েও নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে সকলের মনের মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন এই অভিনেতা। কমার্শিয়াল সিনেমা থেকে আর্ট ফিল্ম করতে তিনি বেশি পছন্দ করেন। এরকম একজন জনপ্রিয় অভিনেতা যদি আজ দেশের জাতপাতের বিভেদ নিয়ে প্রশ্ন করেন, যদি তাকেও জাতপাতের বিভেদের জন্য অপমানিত হতে হয়,তাহলে আমাদের মত সাধারন মানুষদের দুর্ভাগ্যের কোন পর্যায়ে পৌঁছে যেতে হবে তা আন্দাজ করা যাচ্ছে।

আমরা অনেকেই জানি যে, সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষমতা কিন্তু অনেক।সোশ্যাল মিডিয়া নিজের ক্ষমতা দিয়ে যেমন একজন মানুষকে রাতারাতি সেলিব্রিটি করে তুলতে পারেন, তেমনি মুহূর্তে কোন মানুষকে সকলের নজরে খারাপ করে দিতে পারেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়া সকলের জন্য সমান নয়। এই কথার কিছুটা আভাস পাওয়া গেল নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি কথায়। তার যুক্তি অনুযায়ী, “সোশ্যাল মিডিয়া অবশ্যই শহর অঞ্চলের মানুষদের যোগাযোগের একটি অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু দেশে গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষের এখনো সোশ্যাল মিডিয়ার থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছে। এখনো কুসঙস্কারাচ্ছন্ন রয়েছে বহু গ্রামের মানুষ। ভারতে বেশিরভাগ অংশই কিন্তু গ্রামের মানুষদের নিয়ে রয়েছে। তাই এদেশে জাতপাতের সমস্যা ও বিশাল আকার ধারণ করে রয়েছে।

তিনি উত্তর প্রদেশের কাণ্ডকে দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে বলেছেন যে, আমি উত্তর প্রদেশের মানুষ।একটা সময় আমার পরিবারকে জাতপাতের বিভেদ এর জন্য বহু অপমান সহ্য করতে হয়েছে। এরপর স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি জানান,”আমার দিদা একজন ছোট জাতের মানুষ ছিলেন।তাই সারা জীবন গ্রামের উঁচু জাতের মানুষেরা তাকে অপমান করে এসেছে। তাই তাকে এক ঘরে রাখা হতো। এটা ভারতের সংস্কৃতি মনে করা হয়। আমাদের দেশে জাতিভেদ প্রথা অনেক গভীরে রয়েছে। সেটিকে উপড়ে ফেলা এতটাই সহজ নয়।আমি একজন বলিউড স্টার হয়েও আমার গ্রামের লোকের মানসিকতায় কোন পরিবর্তন আনতে পারিনি।

Related Articles

Back to top button