লাইফ স্টাইল

ভাতের ফ্যান কিংবা চাল ধোয়া জল কখনোই ফেলে দেবে না, অবিশ্বাস্য উপকার পাবেন

সাধারনত বাঙালিদের মধ্যে ভাতের চাহিদা সব থেকে বেশি। আর ভাত থেকে ভাতের ফ্যান উৎপন্ন হয় যা আমাদের অনেক উপকারে লাগতে পারে। সাধারণত সবাই ভাতের ফ্যানকে বা চাল ধোয়া জলকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করে ফেলে দেন। কেউ কেউ নতুন জামাকাপড় মার দিতে ভাতের ফ্যানকে ব্যবহার করেন এবং বিশ্বাস করেন এছাড়া এর অন্য কোনো উপকারিতা নেই।

কিন্তু তুমি জানলে অবাক হবেন ভাতের ফ্যান ও চাল ধোয়া জল আমাদের বহু উপকারে লাগতে পারে। এর দ্বারা আমরা আমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে পারি। হ্যাঁ আপনি ঠিকই শুনছেন ভাতের ফ্যান বা চাল ধোয়া জল দিয়ে আমরা আমাদের ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে পারি। কারণ ভিটামিন ও বিভিন্ন ধরনের মিনারেল রয়েছে ভাতের ফ্যান ও চাল ধোয়া জলে।

চুল ভালো রাখে: চুল ভালো রাখতে আপনি ভাতের ফ্যান কিছুক্ষণ মাথায় ঘষে রেখে দিন এবং একটু পরে তা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে ভাতের ফ্যান মাথায় ঘষার আগে আপনাকে মাথাটি শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। কিছুদিন ব্যবহার করলেই আপনি আপনার চুলের পার্থক্য লক্ষ্য করতে পারবেন। আপনার চুল আগের থেকে অনেক বেশী মসৃণ ঝকঝকে হয়ে উঠবে এবং চুলের আগা ফাটা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

ত্বকের জৌলুস আনে: আপনারা অনায়াসেই ভাতের ফ্যান আপনাদের মুখে ব্যবহার করতে পারেন যদি আপনাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। ভাতের ফ্যান টি ব্যবহার করার নিয়ম আপনাকে প্রথমে আপনার মুখটি উষ্ণ গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। মুখ ধুয়ে ফেলার পর আপনাকে কিছুক্ষণ মুখে ভাতের ফ্যান লাগিয়ে পরে ধুয়ে ফেলতে হবে। আমি এরকম ভাবে ভাতের ফ্যান কিছুদিন ব্যবহার করলেই লক্ষ্য করবেন যে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে এবং ত্বক আগের থেকে অনেক বেশি টান টান হবে। তাই আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন মুখের বলিরেখা ঠেকাতে।

ত্বকের জ্বালা ও প্রদাহের চিকিৎসায়: ত্বকের জ্বালা বা প্রদাহ থেকে মুক্তি পেতে আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন। ব্যবহার করার নিয়ম ফুটন্ত জলে চাল ফুটিয়ে সেই জল আপনাকে একটি অন্য পাত্রে ঢেলে রাখতে হবে। এবং আপনাকে ১৫ মিনিট ধরে আপনার শরীরের জ্বালা বা প্রদাহের অংশটি ডুবিয়ে রাখতে হবে। ১৫ মিনিট রাখলে আপনি এর ফল পাবেন।

একজিমা’রও ওষুধ চালের জল : আপনার শরীরে একজিমার হলে আপনি সেখানে চাল ধোয়া জল ব্যবহার করতে পারেন। ততদিন বন্ধু ব্যবহার করুন যতদিন না একজিমার পুরোপুরি ভাবে সেরে উঠছে।

ডায়রিয়ার ওষুধ: ভাতের ফ্যানে ৮ ধরনের অ্যামাইনো এসিড রয়েছে। যা ডায়রিয়া হলে চটপট পেট সারাতে কাজে দেয়। তাই আপনি যদি ডায়রিয়ায় ভোগেন তো সময় নষ্ট না করে চটপট একগ্লাস ভাতের ফ্যান হালকা লবন দিয়ে সেবন করুন।

ভাতের ফ্যান আপনার শরীরে প্রচুর এনার্জীর যোগান দেয় এবং পেশী পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। কারণ ভাতের ফ্যানে আছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট। তাই আপনারা অযোধ্যা ভাতের ফ্যান ফেলে নষ্ট না করে তা নিয়ে দেরি সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজে লাগান। ভাতের ফ্যান মাক্ষি অনেকেরই অস্বস্তি হতে পারে সে ক্ষেত্রে আপনারা অল্প একটু চাল উষ্ন জলে ফুটিয়ে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে তা ব্যবহার করলেও কোন অসুবিধা নেই। দুটোরই উপকারিতা সমান।

Related Articles

Back to top button