নিউজঅফবিট

ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানল প্রতিবন্ধকতা! সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় নজির গড়লেন দৃষ্টিহীন তরুনী

মেয়েটি জন্মের পর রঙিন পৃথিবীটাকেই দেখেছিল আর চার পাঁচটা মেয়ের মতো। পৃথিবীতে তার কাছে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়াকালীন রঙিন ছিল। তারপর থেকেই তপস্বিনী দাসের চোখে নেমে আসে এক কালো অন্ধকার। তিনি তার মনের মধ্যে বিন্দুমাত্র অন্ধকারকে প্রবেশ করতে দেয়নি।

এবছর সাধারন বিভাগের হয়েই উড়িষ্যার দৃষ্টিহীন তরুণী সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাটি দেন। উড়িষ্যা রাজ্যের তপস্বিনী দাস ভুবনেশ্বরের ডিএডি স্কুলে পড়তেন। তিনি অজস্র মাথা যন্ত্রণায় ভুগতেন ৭ বছর বয়স থেকেই। তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি একেবারেই নিঃশেষ হয়ে গেছে তা ডাক্তারি পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে জানা যায়।

ডাক্তার জানায় কিছুদিনের মধ্যেই তার আরেকটি চোখের দৃষ্টি শক্তি নষ্ট হয়ে যাবে। এরপরে তার চোখের শল্যচিকিৎসাও হয়। এরপর তপস্বিনী একেবারেই অন্ধ হয়ে যায়। তার এইরূপ অবস্থা হয় চিকিৎসার গাফিলতির জন্য, এমনটি জানায় তার পরিবার। তপস্বিনী ছোটবেলা থেকেই বরাবর শ্রেণিকক্ষে প্রথম হয়ে এসেছে। দৃষ্টি শক্তির অভাব যেন মেয়ের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তিনি এমনটি চেয়ে ছিলেন বাবা হিসেবে। তাই তাকে ডিএডি স্কুল ছাড়তে হয়।

তপস্বিনী দৃষ্টিহীনদের জন্য তৈরী করা বিশেষ স্কুলে ভর্তি হন। তপস্বিনী জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যেতে থাকে বেইল পদ্ধতিকে হাতিয়ার করে। বাবা অরুণ কুমার দাস এবং মা কৃষ্ণপ্রিয়া দাস সব সময় তাদের মেয়ের স্বপ্ন পূরণের পাশে ছিলেন। উড়িষ্যা সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক হলেন তার বাবা। এবং তার মা ছিলেন স্কুলশিক্ষিকা।

তপস্বিনী রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পাস করেন ভুবনেশ্বরের উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বর্তমানে তিনি সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষা দেন মাস্টার ডিগ্রী কোর্স চলাকালীন। তবে তিনি কোনো বাড়তি সুযোগ সুবিধা নেননি দৃষ্টিহীন হওয়ার পরেও। তপস্বিনী জেনারেল ক্যাটাগরিতেই পরীক্ষা দেন। পাঁচ লক্ষেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী এই উড়িষ্যার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষাটিতে অংশগ্রহণ করেন। তারমধ্যে ১৬১তম স্থান দখল করেন তপস্বিনী। তাতে মাত্র ২১৮ জন সফল হয়েছেন। প্রথম দৃষ্টিহীন আইএএস অফিসার প্রাঞ্জল পালিতকে এই কন্যা আদর্শ বলে মেনে নিয়েছেন।

এখন তিরুঅন্তরপুরমের সাপ কালেক্টরের পদে আছেন প্রাঞ্জল। বহু দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থী এর আগেও উড়িষ্যার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করছেন এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ৮ জন ব্যক্তি।

Related Articles

Back to top button