সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে নোংরা পোস্ট ফেসবুকে, কড়া ব্যবস্থা নিলো মেয়ে পৌলমী

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অনুরাগীরা এখনো তাঁর মৃত্যুশোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। কন্যা পৌলমীও খুবই শোকস্তব্ধ বাবাকে হারিয়ে। তিনি হাসপাতাল ঘরে গত চল্লিশ দিন ধরে বাবার আরোগ্য কামনা করেন। অভিনেতার কন্যা তথা নাট্যকর্মী পৌলমী রবিবার সৌমিত্রবাবুর মৃত্যুর পর ব্যক্তিগত শোক ভুলে অনুরাগীদের মনশক্ত করতে বলেছিলেন। তবে প্রয়াত অভিনেতা ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে কুরুচিকর এবং বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট ছড়াচ্ছে গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ার একটা অংশ। সদ্য বাবাহারা পৌলমী খুবই ক্ষুদ্ধ ও বিরক্ত এই গোটা ঘটনায়।

মঙ্গলবার দিনভর কেন করোনা পরিস্থিতিতে সৌমিত্রবাবুকে বাইরে কাজ করা থেকে আটকায়নি মেয়ে- এই সব নিয়ে প্রশ্ন তুলে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট আগুন গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই নয় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পরিবারের ইকুয়েশন, গোটা পরিবার ৮৫ বছরের অভিনেতার উপর কতখানি আর্থিকভাবে নির্ভরশীল ছিল এই প্রশ্ন গুলিও উঠে আসে। এরপর সৌমিত্র কন্যা রাতে সোশ্যাল মিডিয়াতেই এই অপপ্রচার নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি ক্ষুব্দ হয়ে ফেসবুকে স্পষ্ট জানিয়েছেন,‘ননসেন্স এবং অর্ধ-সত্য…. কবে থামবে এই নোংরামো..সেলেব্রিটির পরিবার বলে যা ইচ্ছে তাই… সোশ্যাল মিডিয়া বলে যা খুশি…’।

তিনি এখানেই থেমে থাকেননি। তুমি ইতিসত্য যোগাযোগ করেন এবং অভিযোগ দায়ের করেন লালবাজারের সাইবার ক্রাইম বিভাগে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে। পৌলমী বসু ফেসবুকেও একথা জানিয়েছেন। সৌমিত্র কন্যাকে কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এই ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ওই বিতর্কিত পোস্ট সরিয়ে দেয় লাগাতার রিপোর্টের জেরে। কিন্তু তার আগেই সেই পোস্টটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা একাধিক ফেসবুক প্রোফাইলে ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে আজ প্রয়াত অভিনেতার গলফ গ্রিনের বাড়িতে হাজির হন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধরী। সৌমিত্রবাবুর মরদেহ নিয়ে বাংলায় ‘নাটক’ হল এমনটাই অভিযোগ করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। অথচ সৌমিত্রবাবুকে বিভিন্ন পদ থেকে অপসারণ করেছিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।