ফোন নেই, টিভি অচল, স্কুলের অনলাইন ক্লাস করতে না পেরে আত্মঘাতী ছাত্রী

মায়ের হাতে খুন তার নাবালিকা মেয়ে

মহামারী করোনভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার লক্ষ্যে দেশজুড়ে পঞ্চম ধাপে লকডাউন চলছে। অবিচ্ছিন্ন লকডাউনে সমস্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি স্কুলও বন্ধ রয়েছে। এদিকে, পঞ্চম দফার লকডাউনে কিছুটা শিথিলতা সত্ত্বেও স্কুল কলেজ এখন আর চালু হচ্ছে না। তবে বিভিন্ন স্কুল অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছে। সোমবার থেকে স্কুলে অনলাইন ক্লাসও শুরু হয়েছে। মোবাইলে কোনও চার্জ না থাকায় দশম শ্রেণির ছাত্রী ক্লাসে যোগ দিতে পারেনি। এই ব্যর্থতা তিনি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত অভিমান করে মেয়েটি নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করল। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে কেরালার মালাপুপুরমের ভ্যালঞ্চেরি গ্রামে। সেই মেধাবী শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর।

তারা ভ্যালানচেরির একটি খুব ছোট বাড়িতে থাকেন। তার বাবা একজন শ্রমিক। লকডাউনের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার প্রাকৃতিকভাবে সাশ্রয় করা অর্থের উপর দিয়ে চলছিল। এদিকে টিভিও খারাপ হয়ে গেছে। অর্থের অভাবে এটি মেরামত করা হয়নি। ফোনে কোনও চার্জ নেই। টিভিটি খারাপ, কিশোর এই সমস্ত বিষয়ে বেশ হতাশ ছিল। সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে না পেরে তিনি আরও হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। মা মেয়েকে বাড়িতে না দেখতে পেয়ে অনেকক্ষণ খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। এই মুহুর্তে, বাড়ি থেকে 200 মিটার দূরে একটি পোড়া লাশ তার নজরে আসে। বাড়ির কেরোসিন বোতল তার পাশেই পড়েছিল। এসব দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানা গেছে, পুলিশ স্থানীয় থানায় এসে লাশ উদ্ধার করে মঞ্জেরীর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিধায়ক আবিদ হুসেন থানগাল সংবাদ সংস্থা আইএনএসকে বলেছেন, ঘরে বসে সঠিক টিভি ও ফোন সিস্টেম নেই এমন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে যদি অনলাইন ক্লাস শুরু করা হত তবে এই করুণ ঘটনাটি এড়ানো যেত। বিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাস সম্পর্কে আমি ইতিমধ্যে শিক্ষা দফতরের সাথে কথা বলেছি, যাতে বাড়িতে টিভি বা স্মার্ট ফোন নেই এমন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা যায়। তবে, সে ভাবতে পারেনি যে কোনও ব্যবস্থা ছাড়াই ক্লাস শুরু হবে। সেই ছাত্রটি খুব মেধাবী ছিল।