নিউজবিনোদন

সুশান্ত আমার ফায়েদা তুলেছে, আমার ভাইকে ব্যবহার করেছে : রিয়া চক্রবর্তী

বলিউড হার্টথ্রব সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু ঘটেছে গত ১৪ ই জুন। প্রাথমিক অনুমান এ এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও তিনি যে আত্মহত্যা করতে পারেন একথা মেনে নেননি তাঁর পরিবারবর্গ থেকে অনুগামীরা পর্যন্ত। শেষমেষ তার মৃত্যুরহস্য তদন্তে ঘাড় তুলে দেয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে। তার মৃত্যু রহস্য ভেদ করতে গিয়ে সিবিআই হদিস পায় মাদকচক্রের। নিয়মিত মাদকদ্রব্য সেবন করায় পুলিশ গ্রেফতার করে সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীকে।

এখন বাইকুলা জেলে রয়েছে অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। আগামী ৮ ই অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে থাকতে হবে রিয়াকে। সুশান্তর মৃত্যুর ৮১ দিন পর এনসিবির জেরার মুখে পড়েন রিয়া। মাদকদ্রব্য সেবন করায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত মঙ্গলবার তার ১৪ দিনের জেল হেফাজত শেষ হয় কিন্তু এরপরেও আদালত ৮ই অক্টোবর পর্যন্ত তাকে জেলে রাখার নির্দেশ দেয়। রিয়া ও শৌভিকের আইনজীবী সতীশ মানশিন্দে দুই ভাই-বোনের জামিনের আর্জি পেশ করেন বোম্বে হাইকোর্টে। আজ আদালতে মামলা শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল কিন্তু বৃষ্টির জন্য সবই ভণ্ডুল হয়ে গেছে। বৃষ্টির জন্য আজ আদালতের কাজ বাতিল। মামলার শুনানি হবে আগামীকাল। এর মধ্যেই দিয়া অভিযোগ করেছেন
সুশান্ত সিং রাজপুত মৃত্যু তদন্তে নেমে মাদকচক্রের হদিস পায় তদন্তকারীরা। আর তারপরেই নিয়মিত মাদক নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীকে। বর্তমানে বাইকুলা জেলেই রয়েছে অভিনেত্রী। আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতেই থাকতে হবে রিয়াকে। আর তাতেই ক্ষোভে ফুঁসছে অভিনেত্রী।

এনডিটিভিতে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে রিয়া তার জামিনের আর্জিতে জানায়- ‘এখন সুশান্ত বেঁচে থাকলে তার বিরুদ্ধে উঠতো ড্রাগ সেবনের অভিযোগ। এক বছরের সাজা হত সুশান্তের। সেটি জামিনযোগ্য অপরাধ। আর সুশান্ত একা শুধু ড্রাগ সেবন করত না, নিজের স্টাফেদের নির্দেশ দিত ওর জন্য মাদক সংগ্রহ করবার’। এছাড়াও রিয়া আরো বলেন, ‘সুশান্ত সিং রাজপুত নিজের আশেপাশের মানুষদের ফায়দা তুলেছে খুব দুর্ভাগ্যের এটা। ওর অনান্য হাউজ স্টাফেদের সঙ্গে ওর নিজের ড্রাগের অভ্যাসকে চালিয়ে যেতে আমাকে, আমার ভাইকে ব্যবহার করেছে’। রিয়ার আরও দাবি ‘সুশান্তের রাঁধুনি নীরজকে ও ওর জন্য মৃত্যুর তিনদিন আগে একটি বক্সের মধ্যে নিষিদ্ধ মাদক ভরে বেডরুমে রেখে দিতে বলেছিল। সেটি মৃত্যুর পর ফাঁকা অবস্থায় উদ্ধার হয় এটা থেকেই বোঝা যাচ্ছে সুশান্তই শুধু ড্রাগ সেবন করত। বুদ্ধির সঙ্গে এই চক্রে জড়িত থাকার কোনওরকম ইলেকট্রনিক এভিডেন্স রাখেনি নিজের’।

সুশান্তের মৃত্যু রহস্য তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আসে রিয়া চক্রবর্তী, সুশান্তের হাউজ ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডা, জয়া সাহা, ও গোয়ার হোটেল ব্যবসায়ী গৌরব আচার্যর সাথে সুশান্তর কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট। যে চ্যাট এই লেখা হয় মারিজুয়ানা, এমডিএমএ, সিবিডি ওয়ালের মতো বিভিন্ন নিষিদ্ধ মাদকের নাম। তারপরই এনসিভির জেরার মুখে পড়ে রিয়া ও তার ভাই সৌভিক। সুশান্ত সিং রাজপুতের হাউজ ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডাকে ইডি আটক করার পর রিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। রিয়া চক্রবর্তীর পাশাপাশি বলিউডের বেশ খ্যাতনামা পরিচালক থেকে অভিনেত্রীর নাম জড়িয়েছে এই মাদক পাচার চক্রের সেগুলি হল সারা আলি খান, অভিনেত্রী রকুল প্রীত সিংয়ের দিল বেচারা’র পরিচালক মুকেশ ছাবড়া ও সুশান্তের পুরোনো ম্যানেজার ও বন্ধু রোহিনী আইয়ার ও অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন ও তার ম্যানেজার করিশ্মা।

Related Articles

Back to top button