জগন্নাথ মন্দিরের ধ্বজার আগুন কি অশনিসংকেত! আতঙ্কে ভক্তরা

করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে কাঁপছে গোটা দেশ। এর মধ্যে আগুন লেগে গেল পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের চূড়ার পতাকায়। গোটা ঘটনায় অমঙ্গলের ইঙ্গিত পাচ্ছেন অনেকে। নেটদুনিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে এই ঘটনার ভিডিও।

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের চূড়ায় বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটা নাগাদ আগুন লাগে। আচমকা চূড়ার মাথায় আগুন দেখতে পেয়ে মন্দিরের পুরোহিত, পাণ্ডা থেকে শুরু করে নিরাপত্তারক্ষী ও ভক্তদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল‌্য সৃষ্টি হয়। সমস্বরে চারদিক থেকে জয় জগন্নাথ ধ্বনি ওঠে।

[আরও পড়ুনঃঅবশেষে ফাঁসি হল নির্ভয়ার চার ধর্ষক-হত্যাকারীর]

সবাই হাতজোড় করে প্রার্থনা করতে থাকেন, ‘হে জগন্নাথ রক্ষা করো’। খবর যায় পুরী জেলা প্রশাসন ও দমকল দপ্তরে। মিনিট কয়েক ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে মন্দিরের চূড়ায় থাকা আকারে ছোট একটি ধ্বজা পুড়ে যায় বলে মন্দির পরিচালন সমিতি সূত্রে খবর।

তবে আগুনে মন্দিরের কোনও ক্ষতি হয়নি। অক্ষত রয়েছে চক্রও। পুরী জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, জগন্নাথ মন্দিরের শীর্ষে একটি ছোট হনুমান মন্দির আছে। সেখানে প্রতিদিন সন্ধ‌্যায় প্রদীপ দেওয়া হয়। মন্দিরের বাইরে একটি বড় মাপের প্রদীপে ঘি এবং সলতে দিয়ে সন্ধ‌্যার মুখে বসিয়ে দেওয়া হয়। এটাকে মহাপ্রদীপ বলে।

প্রত‌্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত আটটা নাগাদ প্রবল বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং কিছুটা বৃষ্টি হয়। তখন নিচের ছোট ধ্বজাগুলির একটি উড়ে গিয়ে ওই হনুমান মন্দিরের মহাপ্রদীপে পড়ে। সেখান থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। পুরী মন্দিরের অন‌্যতম সেবাইত জগন্নাথ দৈতাপতি জানিয়েছেন, ”দেবতার মন্দির দেবতাই রক্ষা করেছেন। তবে এমন আগুন লাগার ঘটনা মোটেই শুভ সংকেত নয়। আমরা সবাই জগন্নাথে ভরসা করি, তিনি শুধু মন্দির নয়, জগত্‍কেও রক্ষা করবেন।”

পুরীর মন্দিরের একাধিক পাণ্ডা অগ্নিকাণ্ডের পর বলেছেন, করোনার গ্রাস যে বড় ক্ষতি করতে পারে, তা এই মন্দির চূড়ার আগুনের মধ‌্য দিয়ে সংকেত দিয়ে গেল। যদিও এমন বক্ত‌ব‌্য মানতে নারাজ মন্দিরের প্রবীণ পুরোহিতরা। এদিন মন্দিরের এই অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও মুহূর্তে গোটা দেশে ভাইরাল হয়ে যায়।

অনেক রাতেও শুধু দেশ নয়, বিদেশ থেকেও বহু জগন্নাথ ভক্ত পুরীতে সেবাইত ও পাণ্ডাদের ফোন করে ঘটনার সত‌্যতা জানতে চান। মন্দিরের পরিচালন সমিতির গাফিলতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। কারণ এত বছরে কখনও মহাপ্রদীপ থেকে ছোট ছোট ধ্বজায় আগুন লাগেনি। করোনার জেরে পুরীতে এখন ভক্ত সংখ‌্যা অনেক কম। তাই বড় মাপের কোনও উত্তেজনা হয়নি।