নিউজরাজ্য

ক্ষেতমজুরের কাজ করে মেয়েকে পড়াচ্ছেন মা, স্মার্টফোন না থাকায় পরীক্ষা দিতে পারল না মেয়ে

ডিজিটাল এই যুগে সব কিছুর সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাও দিনের-পর-দিন ডিজিটাল হয়ে পড়ছে। করোনা পরিস্থিতির শুরু হওয়ার পর এমনিতেও শিক্ষাব্যবস্থা ডিজিটাল মাধ্যমে হচ্ছে। অনলাইন ক্লাস, অনলাইন ফর্ম ফিলাপ সবকিছুই এখন হচ্ছে ঘর বন্দী অবস্থায় স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে সমস্ত পরিবার বা যে সকল ছাত্র-ছাত্রী এখনো স্মার্ট ফোনের সুবিধা উপভোগ করতে অক্ষম তাদের শিক্ষার কি হবে?

এখনো দেশে এমন অনেক দরিদ্র পরিবার আছেন যেই পরিবারের ছেলেমেয়েদের কাছে স্মার্টফোনটি একটি বিলাসিতা। যেখানে সংসার চালাতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয় সেখানে নতুন একটি স্মার্টফোন কেনার কথা ভাবাই যায় না।

এ রকমই একটি পরিস্থিতির শিকার হতে হল পূর্ব বর্ধমানের মেয়ে সুমিত্রাকে। তার বাবা নেই, মা ক্ষেতমজুরের কাজ করে সংসার চালায়। মায়ের সঙ্গ দিতে হয় সুমিত্রকেও। সুমিত্রা খুব গরীব হওয়ায় নেই কোন স্মার্টফোন, তাই করোনা পরিস্থিতিতে ঘরবন্দি হওয়ার পর থেকে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সম্পুর্ন ভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। তার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার নোটিশ এর খবর কোনভাবেই পৌঁছলো না তার ঘরে। করা হলোনা ফর্ম ফিলাপ, ফলে কলেজের পরীক্ষা দিতে ব্যর্থ হলেন তিনি।

সুমিত্রা জানিয়েছেন দারিদ্রতার জন্য সে কোনদিন স্মার্টফোন ব্যবহার করার সুযোগ পায়নি, এর ফলে করোনা পরিস্থিতিতে খুব অসুবিধা হয়েছে পড়াশোনার বিষয় জানতে বা তার কোনো বন্ধু বান্ধবীর সাথে যোগাযোগ করতে। অবশেষে অনেক কষ্টে টাকা যোগাড় করে একটি স্মার্টফোন কেনে সুমিত্রা। তৎক্ষণাৎ বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করার পর জানতে পারে দুদিন পরে পরীক্ষা। অবশ্য দুদিন পর পরীক্ষা দিতে পৌঁছেও যায় সুমিত্রা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার পরীক্ষা দিয়ে ওঠা হয়নি কারণ সে সময় মত ফরম ফিলাপ করতে পারেনি স্মার্টফোনের অভাবে। এর ফলে পিছিয়ে গেলো একটি বছর। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনেক অনুরোধ করার পরও সাড়া দেননি তারা।

তাই প্রশ্ন উঠছে যে সমস্ত পরিবার দিনমজুর করে অত্যন্ত দারিদ্রতার মধ্যে কোন রকম ভাবে সংসার চালায়, সেই সকল পরিবারের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা কি তাহলে সম্ভব নয় এই ডিজিটাল যুগে? শুধুমাত্র তারাই শিক্ষা ব্যবস্থার সুবিধা উপভোগ করতে পারবে, যারা শুধুমাত্র স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতে সক্ষম?

Related Articles

Back to top button