করোনাতঙ্কে নিজের স্তন্যপান করিয়েই কান্না থামালেন সদ্যজাতের, কুর্নিশ এই নার্সকে

জন্মের পরে বুকের দুধ পান করাতে না পারায় শ্রম ওয়ার্ডে ভর্তি এক মহিলা বুকের দুধ পান করতে পারেননি। এদিকে দুধের অভাবে নবজাতক তিন ঘন্টা কাঁদছেন। মায়ের অসহায়ত্ব দেখে অন্য মা চুপ করে বসে থাকতে পারেন নি। আরজি কর হাসপাতালের নার্স উমা অধিকারী বাচ্চাকে কোলে জড়িয়ে ধরে স্তন্যপান করিয়ে কান্না থামিয়ে দিয়েছিলেন।

তাঁর ধর্ম হচ্ছে রোগীদের সেবা করা। ঘাটালের কন্যা উমাও করোনায় বিভিন্ন প্রতিকূলতা কাটিয়ে সাবধানতার সাথে তাঁর ধর্মের চর্চা করছেন। তবে, তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন যে তিনি কেবল নার্সই নন, তিনি একজন মাও। ঘটনাটি ঘটেছে গত সপ্তাহে। উমা আরজি ট্যাক্স লেবার ওয়ার্ড নাইট ডিউটিতে ছিলেন। একদিন একটি ওয়ার্ডে ডিউটি ​​করতে হয়। সাড়ে আট মাস বয়সী ছেলেকে বাড়িতে রেখে তিনি যথারীতি পিপিই-মুখোশের পরে রোগীদের যত্ন নিচ্ছেন। সেখানে একটি সুন্দরী কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরে মহিলাটি নিজেকে অসহায় বোধ করতে শুরু করে। কারণ দু-তিন ঘন্টা প্রসবের পরেও তিনি তার স্তন থেকে দুধ পাচ্ছেন না। তবে নবজাতক দুধ না পেয়ে কাঁদছেন।

সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে মাদার-বেবি সেন্টারের শরণাপন্ন হন মা। কিন্তু করোনা আর লকডাউনের আবহে সেসব এখন কোথায়! অনেক সময় ওয়ার্ডের অন্যান্য মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য এগিয়ে আসেন। কিন্তু করোনার ভয় সবাইকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরেছিল যে নতুন মাদার ওয়ার্ডের অন্যান্য মহিলারা এগিয়ে আসার সাহস পেলেন না। পাছে তাদের ছেলেমেয়েরা সমস্যায় পড়বে! তাহলে উপায়?

নবজাতকের ব্যথা আর সহ্য করতে না পেরে উমা তাকে কোলে নিয়ে গেলেন। সে দু’বার চুষে শিশুর কান্না থামিয়ে দিয়েছিল। উমা বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে নিঃসরণ স্বাভাবিক করার জন্য সেই মা’কে মোটিভেট করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে বাচ্চা এত কাঁদছিল যে ওর কান্না থামাতে ওকে স্তন্যপান করালাম। পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পর শিশুটির মা স্তন্যদানে সক্ষম হয়ে গিয়েছিলেন।”

উমা জানায় ঠিক তখনই বাড়ি থেকে ফোন কল আসে। কিন্তু বাচ্চা বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য ব্যস্ত থাকায় ফোন তুলতে পারেনি। নার্সের কথায়, “রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। সাড়ে আট মাস বয়সী ছেলেটি ঘুমাতে যাওয়ার আগে একবার ভিডিও কলে আমার মুখ দেখে। তাই স্বামী ভিডিও কল করছিলেন। তবে আমি ফোনটি ঝুলিয়ে রেখেছিলাম। আমি আমার স্বামীকে বলেছিলাম যে আমি স্তন্যপান করানোতে ব্যস্ত। এই শুনে স্বামী কিছুটা ভয় পেয়ে গেলেন। আসলে, আমাকে বাড়িতে যেতে হবে এবং আমার সন্তানের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। “