অবাক কাণ্ড! চুরি করা বাইক পার্সেল করে ফেরত পাঠাল চোর

লকডাউনে পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশে ফিরতে মরিয়া। সরকার তাদের জন্য ট্রেনের বাসের ব্যবস্থা করছে। তবে সবাই জায়গা পাবে না। কেউ কেউ হাঁটছেন, কেউ বাইকে বাসায় যাচ্ছেন, কেউ সাইকেল চালিয়ে। এর মধ্যে, একটি পরিযায়ী শ্রমিক একটি অভিনব ঘটনা ঘটায়। বাড়ি ফেরার জন্য একটি বাইক চুরি করেছিলেন তিনি। বাড়ি ফিরে গিয়ে সেই বাইকটি পার্সেল করে পাঠিয়ে দিলেন মালিকের কাছে। হতবাক গাড়ির মালিক। সপ্তাহ দুয়েক আগে হঠাৎই সাধের বাইক চুরি হয়ে যায় ভি সুরেশ কুমারের। তিনি কুইম্বাতুরের সুলুরে একটি বাইকের শোরুমের মালিক। বাইকটি চুরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে ভেঙে পড়ে সুরেশ।

তিনি থানায় গিয়ে চুরির অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ তাকে বলেছিল যে তারা করোনার পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত। এখন কোনওভাবেই তারা বাইক চুরির ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে পারে না। বাইক চোর অনুসন্ধান করার জন্য কোনও পুলিশ সদস্য ছিল না। তাই সুরেশ নিজে বসে না থেকে বাইক চোরকে ধরতে তদন্ত শুরু করে। অবশেষে তিনি চোর সম্পর্কে জানতে পারেন। এলাকার কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দেখতে পান চোর কে। সিসিটিভি ফুটেজে তিনি দেখলেন এক ব্যক্তি তার বাইক চুরি করে পালিয়ে গেছে। তাই তিনি ভিডিওটি নিজের মোবাইলে নিয়ে গিয়ে আশেপাশের লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন। কেউ যদি চোর সম্পর্কে জানতে পারে।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, চোরের নাম প্রশান্ত। সুরেশ ফ্যাক্টরির পাশের একটি চায়ের দোকানে কাজ করত। প্রশান্ত অঞ্চল থেকে ২৪০ কিলোমিটার দূরে মান্নানগুরি শহর থেকে এসেছিলেন। লকডাউনে সবার মতো তাঁরও হাতে কোনও কাজ ছিল না। তবে পরিবারে একজন স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। সুরেশ ভেবেছিল টাকার জন্য সে প্রশান্তের বাইক চুরি করতে পারে। তবে পরে জানা গেল যে তার ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল ছিল। কয়েক সপ্তাহ পরে সুরেশ তার বাইকটি অক্ষত অবস্থায় পেয়েছিল। প্রশান্ত তার বাড়ি মান্নানগুড়ি থেকে পার্সেলে পাঠিয়েছিলেন।

বাইক চুরির মূল উদ্দেশ্য ছিল স্ত্রী এবং সন্তানের কাছে ফিরে আসা। কোনোভাবেই তিনি বাড়ি ফিরতে পাচ্ছিলেন না। তাই উপায় না দেখে তাকে বাইক চুরি করে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল। বাড়িতে পৌঁছে প্রশান্ত তার গ্রাম থেকে ১৩,৪০০ টাকার পার্সেল পাঠিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। সুরেশ পোস্ট অফিস থেকে বাইকটি সংগ্রহ করেছিল ১,৪০০ টাকা দিয়ে। সুরেশ জানান, বাইকটি সম্পূর্ণ অক্ষত এবং কোনও ক্ষতি হয়নি। তারপরে তার বাইকটি চুরি হয়ে গেছে বলে অভিযোগ প্রত্যাহার করেন তিনি। নিজের ভুল ধারণা নিয়ে সে লজ্জিত।