নিউজ

মেদিনীপুরে দেখা গেলো পৃথিবীর সবথেকে বড় প্রজাতির কুমির, চরম আতঙ্কে এলাকাবাসী

আমরা সচরাচর বাঘ এবং কুমিরকে কিছু টেলিভিশন চ্যানেল যেমন “অ্যানিম্যাল প্লানেট” বা “ডিসকভারিতে” দেখে যতটা আনন্দ উপভোগ করি ততোটাই ভয়ে ভয়ে দেখি চিড়িয়াখানায় গেলে। চিড়িয়াখানায় তারা ঘেরার মধ্যে থাকলেও আমরা নিজেদের সাবধানতা অবলম্বন এর জন্য দূরত্ব বজায় রেখে উপভোগ করি সেই দৃশ্য। কিন্তু একবার ভাবুন তো, যদি খবর পান আপনারই এলাকায় একটি কুমির প্রবেশ করেছে তাও আবার বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম প্রজাতির কুমির!

হ্যাঁ এমনটিই ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরে। জানা গেছে পূর্ব মেদিনীপুরে সাম্প্রতিক তিনটি কুমির প্রবেশ করেছে যার মধ্যে একটি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম প্রজাতির অন্তর্গত। খবরটি প্রকাশ হওয়ার পরই পূর্ব মেদিনীপুরের মানুষের মনে বিপুল আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গবেষকদের মতে এই কুমিরটি সুন্দরবন এলাকা থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার সাঁতার কেটে এই অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এই মরসুমটি কুমিরদের প্রজননের সময়।

কিছু মাস আগেই আম্ফান ঝড়ের ফলে বিধ্বস্ত হয়েছে সুন্দরবন উপকূল এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকা, আর সাম্প্রতিক লকডাউন এর সময় পরিবেশ ও যথেষ্ট শান্ত ছিল তাই এই কুমিরটি উঁচু এবং সুরক্ষিত জায়গায় ডিম পাড়ার জন্য হয়তো এই অঞ্চলের দিকে সাঁতরে চলে এসেছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তবে ইতিমধ্যে আরো দুটি কুমিরকে উদ্ধার করে নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং এই কুমিরটিকে শনিবার উদ্ধার করে গবেষণার জন্য আলিপুর চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন এই ধরনের কুমির সাধারণত প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত সাঁতরে চলে যেতে পারে প্রজননের জন্য। তার ফলে এই সামান্য দূরত্বে চলে আসা কোনো অস্বাভাবিক ব্যাপার নয় এই কুমিরের ক্ষেত্রে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি জলজ্যান্ত কুমির ঢুকে পড়া টা খুবই ভয়ানক, এর ফলে এলাকাবাসীদের মনে যে ভয়ের সৃষ্টি হয়েছিল সেই ভয়টি থেকে তারা স্বস্তি নিঃস্বাস ফেলেছেন যখন জানা গেছে কুমিরটিকে ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button