করোনায় আক্রান্ত বিশ্ব, মহামারীর জন্য চিনকেই দায়ী করলেন ট্রাম্প

করোনায় আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। দিন-দিন লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। কার্যত করোনার ত্রাসে বিপর্যস্ত অবস্থা গোটা পৃথিবীর। বিশ্ববাসীর এমন ভয়ানক পরিস্থিতির জন্য সরাসরি এবার চিনের বেজিং শহরকেই দায়ি করলেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে প্রেস কনফারেন্স করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোণাল্ড ট্রাম্প। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে করোনা নিয়ে বলতে গিয়ে ফের আরও একবার তোপ দাগেন তিনি চিনের বিরুদ্ধে। এদিন তিনি বলেন, ‘ চিনের দায়িত্বজ্ঞান হীন কাজের মূল্য আজ চোকাতে হচ্ছে গোটা পৃথিবীর মানুষকে। বিশ্বজুড়ে মারণ এই মহামারীর জন্য দায়ি একমাত্র চিনই।’

[আরও পড়ুনঃন্যায্যমূল্যে জৈব সানিটাইজার বিক্রি করছে রাজ্য]

তিনি আরও বলেন, ‘ চিন যদি প্রথমেই বিষয়টি চাপা না দিয়ে সবাইকে জানিয়ে দিত, তাহলে পৃথিবীতে প্রতিদিন এত মৃত্যুমিছিল দেখতে হত না। আজকে গোটা বিশ্বে যে মহামারীর আকার ধারন করেছে তা চিনের তথ্য গোপন করার ফলেই এমন অবস্থা হয়েছে।

চিনের হুহান প্রদেশ থেকে সৃষ্ট এই মারণ ভাইরাসের বিষয়টি যদি কয়েক মাস আগেও জানা যেত, তাহলেও কিছু একটা করা যেত। কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি। যার মূল্য প্রাণ দিয়েই দিতে হচ্ছে অসংখ্য বিশ্ববাসীকে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্য জনক ব্যাপার।’

প্রসঙ্গত, গত বছর ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে চিনের হুহান প্রদেশে প্রথম ছড়িয়ে পরে মারণ এই ভাইরাস। হুহানের এক ২৯ বছরের চিকিত্‍সক লি ওয়েনলিয়াং প্রথম কোভিড-১৯ সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, সোশ্যাল মিডিয়াতে এই বিষয়টি উল্লেখ করার পরই স্থানীয় পুলিশের তরফে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

পরে করোনা ভাইরাসেই আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয় তাঁকেও। এদিকে, করোনা ভাইরাসের জেরে প্রতিদিনই ঊর্ধ্বমুখী মৃতের সংখ্যা। মারণ এই ব্যাধিতে আক্রান্ত বিশ্বের মোট ১৪৫টি দেশ। এখনও পর্যন্ত গোটা বিশ্বে মৃত বেড়ে ৯ হাজারের কাছে। আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ১০ হাজার ৩০০ জন।

অন্যদিকে, চিনের পর প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের থাবায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইউরোপ মহাদেশে। ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৭৫ জন মারা গিয়েছেন। শুক্রবার রাত পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতালিতে ৪০৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মৃতের সংখ্যায় ইতালি মারণ এই ভাইরাসের উত্‍পত্তিস্থল চিনকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত ৩,২৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।