কাজের ফাঁকে একটু বিশ্রাম, তাতেই ফুটপাতে নিশ্চিন্তে ঘুম দুই পুলিশকর্মী

ফুটপাতের উপরেই নিরুদ্বেগে ঘুমিয়ে দুই পুলিশকর্মী। পরনে খাকি উর্দি। পাশে ছড়িয়ে রয়েছে তাদের হেলমেট লাঠি ও অন্যান্য সরঞ্জাম। নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে তারা। অরুণাচল প্রদেশের ডিআইজি মধুর ভার্মা টুইটারে এই ভিডিওটি শেয়ার করেন।

সময়টা করোনা পরিস্থিতি না হলে পুলিশের এহেন কর্মকাণ্ড দেখে শোরগোল ফেলে দিত আমজনতা। কিভাবে তারা কর্তব্যরত অবস্থায় ঘুমায় তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলত বিতর্ক, শুরু হতো বিশ্লেষণ। তবে দেড় মাস থেকে দেশের চিত্রটা অন্যরকম। মানুষের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে থাবা বসিয়েছে মারণ ভাইরাস করোনা। দেশ মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭০০, আক্রান্ত ২১ হাজার।

সংক্রমণ রুখতে লকডাউন জারি হয়েছে দেশে। শুধুমাত্র জরুরী পরিষেবা ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় লকডাউন। তাই কড়া পাহারা দিচ্ছে পুলিশ। মানুষকে রক্ষা করার জন্য লকডাউনে কখনো তারা লাঠি উঁচিয়ে, কখনো বা মানুষকে সুমিষ্ট ভাবে বুঝিয়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করছেন।

কোথাও কোথাও আবার নিজের গাড়িতে করে প্রসূতি মাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন, কোথাও বা তারা ভবঘুরেদের হাতে তুলে দিচ্ছেন খাবার।প্রতিমুহূর্তে মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া পুলিশ কর্মীদের মধ্যে নিশ্চয়ই ছিলেন ওই দুই কর্মী ও।

ছবি দেখে মনে হচ্ছে কাজের মাঝে একটু ফাঁক পেয়েই বোধহয় ফুটপাতে শুয়ে জিরিয়ে নিচ্ছিলেন। তাতেই বোধ হয় অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘুমিয়ে পড়েছেন। টানা পরিশ্রমে হাল ছেড়ে দেয় শরীর।

অরুণাচল প্রদেশের আইপিএস মধুর ভার্মা ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে লিখেছেন-‘এই সময়ে আরামদায়ক বিছানায় ৮ ঘন্টা ঘুম কি বিলাসিতা নয়! যদি আপনি পুলিশ হন তাহলে নিঃসন্দেহে তা বিলাসিতা। এই করোনা যোদ্ধাদের জন্য গর্ব হয়।’