আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা

33
ছবি: বৃষ্টি

একনাগাড়ে প্রবল বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে রাজ্যের একাধিক জেলা। শুক্রবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও শনিবার থেকে ফের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সর্তকতা জারি করল হাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ বাংলার সীমানা পেরিয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে চলে গেলেও এখনও বঙ্গবাসীর বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই নেই। সপ্তাহের শেষে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে উত্তরবঙ্গে। দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস জানিয়েছে হাওয়া অফিস। পুজোর সময় বাংলা থেকে পুরোপুরিভাবে বর্ষা বিদায় নেবে কিনা তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, শনিবার প্রবল বর্ষণে ভাসতে পারে পূর্ব বর্ধমান। এদিকে শুক্রবার কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হলেও ২ ও ৩ অক্টোবর মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে রয়েছে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। উত্তরবঙ্গের বেশকিছু জেলা যেমন- দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস জানানো হয়েছে হাওয়া অফিসের তরফ থেকে। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ এবং বীরভূমেও রয়েছে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।

আরও পড়ুন:   বঙ্গোসাগরের ফের নিম্নচাপ, পুজোতে কি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা? জানালো আবহাওয়া দফতর

প্রবল বর্ষণের জেরে দামোদর নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে জল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ডিভিসি। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ১ লক্ষ ৩৫ হাজার কিউসেক জল এখনও পর্যন্ত ছাড়া হয়েছে ডিভিসি থেকে। এর ফলে প্লাবিত হয়েছে রাজ্যের বেশকিছু এলাকা। মাইথন জলাধার থেকে ছাড়া হয়েছে ৮০ হাজার কিউসেক জল এবং ৩৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঞ্চেত জলাধার। ডিভিসি তরফ থেকে জানানো হয়েছে ঝাড়খণ্ডে নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টির ফলে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি হয়েছে এবং তা জল ছাড়ার মুখ্য কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন না জানিয়েই ডিভিসি থেকে জল ছাড়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:   তৈরী হয়েছে জোড়া ঘূর্ণাবর্ত, আজ ও রাজ্যের এই জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
ছবি: বৃষ্টি

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভবত ৬ অক্টোবর অর্থাৎ বুধবার উত্তর-পশ্চিম ভারতে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কবে বর্ষা বিদায় নেবে তা এখনও নিশ্চিত ভাবে জানানো যাচ্ছে না। প্লাবিত এলাকাগুলির পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী নিজে গিয়েছিলেন গতকাল। দুর্যোগ পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য দফায় দফায় বৈঠক করছেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রত্যেক জেলায় পাঠানো হচ্ছে মন্ত্রীদের।

আরও পড়ুন:   মাটি হতে পারে পুজোর আনন্দ, ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী তুমুল বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া দফতর

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে আজ দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে যথাক্রমে ৩৪.৩ ডিগ্রি এবং ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। সর্বাধিক ৯৭ শতাংশ এবং ন্যূনতম ৫৭ শতাংশ থাকবে বাতাসে আপেক্ষিক আদ্রতার পরিমাণ।